ডাকসু ও জাকসু'র মতো বিতর্কিত নির্বাচন চকসু তে কাম্য নয়



আজ, ১৫ অক্টোবর ২০২৫, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের জন্য এক ঐতিহাসিক দিন। দীর্ঘ ৩৬ বছর পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচন ক্যাম্পাসে প্রাণ ফিরিয়েছে, হাজারো শিক্ষার্থীর মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। দেশের প্রায় প্রতিটি পত্রিকায় এই সংবাদ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়েছে। চবির ৫৯ বছরের ইতিহাসে মাত্র ৬ বারের পর এই সপ্তমবারের নির্বাচন নিঃসন্দেহে ছাত্র রাজনীতির এক নবদিগন্তের সূচনা।

​তবে এই উৎসবের আবহের মধ্যেই আমাদের ভুলে গেলে চলবে না অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু)-এর সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলো সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষতা নিয়ে যে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, তা ছাত্র রাজনীতির মূল আদর্শকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

​চাকসু নির্বাচন: ছাত্র সমাজের সামনে নতুন পথ

​চাকসু নির্বাচন এই বিতর্কিত উত্তরাধিকারকে পেছনে ফেলে আসার এক বিশাল সুযোগ। দীর্ঘ অচলাবস্থার পর এই নির্বাচন আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে যে সতর্কতা ও দৃঢ়তা দেখাতে হবে, তা হলো:

​১. নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ:

​ডাকসু নির্বাচনের মতো যেন প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ না ওঠে, সেদিকে কঠোর নজর দিতে হবে। ভোট গ্রহণ থেকে গণনা পর্যন্ত প্রতিটি প্রক্রিয়া সচ্ছতানিরপেক্ষতার সাথে সম্পন্ন করতে হবে। প্রতিটি বুথে পর্যাপ্ত তদারকি এবং সকলের জন্য উন্মুক্ত ফলাফলের ব্যবস্থা থাকতে হবে।

​২. শিক্ষার্থীদের স্বাধীন মতপ্রকাশের সুযোগ:

​নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা চাপ সৃষ্টির চেষ্টা যেন না হয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি। শিক্ষার্থী যেন নির্ভয়ে ও স্বাধীনভাবে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে, সেই নিরাপত্তা প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে।

​৩. ছাত্র রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন:

​দীর্ঘদিন পর এই নির্বাচন ছাত্র রাজনীতিতে নতুন রক্ত সঞ্চার করবে। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দায়িত্ব হবে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা করা—শিক্ষার মান উন্নয়ন, আবাসন সমস্যা, সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিকাশ এবং র‌্যাগিংমুক্ত ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠায় মনোযোগ দেওয়া।

​চাকসু নির্বাচন শুধু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়, বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতির ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ধারণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ছাত্র-জনতার দীর্ঘ সংগ্রামের ফসল এই নির্বাচন। যদি এটিও ডাকসু বা জাকসু'র মতো বিতর্কিত হয়, তবে ভবিষ্যতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ শিক্ষার্থীর আস্থা চিরতরে হারাবে

​তাই, চবি কর্তৃপক্ষ এবং অংশগ্রহণকারী সকল ছাত্র সংগঠনের প্রতি আহ্বান—এই ঐতিহাসিক সুযোগকে কাজে লাগান। একটি প্রশ্নাতীত, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন উপহার দিন, যা দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আমরা একটি বিতর্কিত চাকসু চাই না; আমরা চাই এমন একটি চাকসু, যা সত্যিই ছাত্র-ছাত্রীদের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠবে। গণতন্ত্রের এই ক্ষুদ্র ক্ষেত্রটিতে যেন কোনো কলঙ্কের দাগ না লাগে, সেই প্রত্যাশাই আজ প্রতিটি সচেতন শিক্ষার্থীর।

মন্তব্যসমূহ