গাজার অবরোধ ভাঙতে গিয়ে আটক ‘ফ্রিডম ফ্লোটিলা’: আটককৃতদের নিরাপত্তা নিয়ে জাতিসংঘের বিশেষ দূতের উদ্বেগ



গাজা উপত্যকার ওপর ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের কঠোর অবরোধ ভাঙার এক অত্যন্ত সাহসী প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন একদল আন্তর্জাতিক মানবাধিকারকর্মী, স্বাস্থ্যকর্মী এবং সাংবাদিক। ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ (Global Sumud Flotilla)-এর প্রধান জাহাজটি আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র উদ্বেগ। এই সাহসী যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং স্বাধীনতার বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে।

আটকের ঘটনা ও আরোহীদের পরিচয়:

ফ্লোটিলার প্রধান জাহাজটিতে মোট ৯২ জন আরোহী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ১৬ জন আন্তর্জাতিক সাংবাদিক, যাঁরা প্রায় ১০টিরও বেশি দেশের সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিত্ব করছিলেন। বাকিদের মধ্যে ছিলেন স্বাস্থ্যকর্মী এবং মানবতাবাদের পক্ষে দাঁড়ানো অ্যাক্টিভিস্টরা। তাঁদের মূল লক্ষ্য ছিল গাজায় মানবিক সাহায্য পৌঁছানো এবং একই সঙ্গে ইসরায়েলের আরোপিত মিডিয়া প্রবেশাধিকার নিষেধাজ্ঞা ভেঙে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে গাজায় অবাধ প্রবেশে সহায়তা করা।

জাতিসংঘের বিশেষ দূতের গভীর উদ্বেগ:

এই আটকের ঘটনায় জাতিসংঘের বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়ার (Special Rapporteur) আইরিন খান গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বিশেষত ফ্লোটিলার ক্রু ও সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন, কারণ ইসরায়েলি হেফাজতে থাকাকালীন তাঁদের ওপর খারাপ আচরণের অভিযোগ উঠেছে।

আইরিন খান জোর দিয়ে বলেন যে ইসরায়েলের দায়িত্ব হলো আটককৃতদের সমস্ত অধিকার নিশ্চিত করা। এর মধ্যে রয়েছে:

 * তাঁদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া।

 * তাঁদের আইনজীবী এবং কনস্যুলার সেবা পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা।

 * তাঁদের নির্যাতন বা যেকোনো ধরনের খারাপ ব্যবহার থেকে সুরক্ষা দেওয়া।

সংহতি ও সাংবাদিকতার স্বাধীনতা:

আটক আন্তর্জাতিক সাংবাদিকেরা মূলত স্থানীয় ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের প্রতি সংহতি জানাতে এই সমুদ্রযাত্রা করেছিলেন। এই প্রসঙ্গে আইরিন খান তুলে ধরেন ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের কঠিন পরিস্থিতি। সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ২৫২ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি সাংবাদিক নিহত হয়েছেন এবং যুদ্ধাপরাধ সংক্রান্ত প্রতিবেদন তৈরি বন্ধ করতে অনেককে উদ্দেশ্যমূলকভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, “গাজা এবং ফ্রিডম ফ্লোটিলার সাংবাদিকদের এই সাহসী প্রচেষ্টা বৃথা যেতে পারে না।”

আটককৃতরা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি দেখানো ও সাহায্য করার মৌলিক অধিকার রাখেন। ইসরায়েলের দায়িত্ব হলো এই অধিকারগুলোকে সম্মান করা। এই পরিস্থিতিতে অবরুদ্ধ গাজায় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের অবাধ ও তাৎক্ষণিক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

আইরিন খান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, ইসরায়েলের ওপর যেন চাপ সৃষ্টি করা হয় যাতে তারা অবিলম্বে আটককৃত কর্মীদের মুক্তি দেয় এবং গাজায় কর্মরত সকল সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মানবতার পক্ষে দাঁড়ানো এই আরোহীরা যেন দ্রুত মুক্তি পান, সেই প্রত্যাশাই এখন বিশ্ববাসীর।

মন্তব্যসমূহ