আবারও অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত: জনস্বাস্থ্য ও পশুস্বাস্থ্যে সতর্কবার্তা
রংপুর জেলায় আবারও অ্যানথ্রাক্স রোগের প্রাদুর্ভাব ধরা পড়েছে, যা বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের দুর্বলতাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে আইইডিসিআর (IEDCR)–এর পরীক্ষায় পীরগাছা উপজেলায় অন্তত ৮ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়েছে, পাশাপাশি কাউনিয়া ও মিঠাপুকুরে আরও ৩ জন রোগী নিশ্চিত হওয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ জনে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এর আগে পীরগাছায় সন্দেহজনক উপসর্গ নিয়ে অন্তত দুজনের মৃত্যু হয়েছিল। মৃতদেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ না করায় এই মৃত্যুর কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যানথ্রাক্স বলে নিশ্চিত করা না গেলেও, এটি পরিস্থিতি কতটা গুরুতর, তার ইঙ্গিত দেয়।
অ্যানথ্রাক্স কেবল একটি পশু রোগ নয়, এটি একটি জুনোটিক রোগ (Zoonotic Disease), অর্থাৎ যা পশু থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রামিত হয়। এই রোগের পুনরাবৃত্তি রোধে সরকারের সমন্বিত এবং দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ অপরিহার্য।
১. যেভাবে ঘটছে সংক্রমণ: অ্যানথ্রাক্স চক্রের বিশ্লেষণ
অ্যানথ্রাক্স একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ, যার কারণ হলো Bacillus anthracis নামে একটি ব্যাকটেরিয়া। এর স্পোর মাটিতে বহু বছর পর্যন্ত নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকতে পারে।
গবাদি পশুতে সংক্রমণ: গরু-ছাগল ঘাস খাওয়ার সময় এই স্পোর মাটিতে থাকা অবস্থায় তাদের শরীরে প্রবেশ করে। বাংলাদেশে প্রতি বছর বর্ষার পর যখন ভূমি কর্দমাক্ত থাকে, তখন এই ঝুঁকি বাড়ে।
মানুষে সংক্রমণ: অসুস্থ পশু জবাই করে তার মাংস, রক্ত বা চামড়ার সংস্পর্শে এলে মানুষ আক্রান্ত হতে পারে। স্থানীয়ভাবে সংক্রামিত পশুর মাংস বাজারজাত হওয়ায় ঝুঁকি দ্রুত ছড়াচ্ছে। উদ্বেগজনকভাবে, ফ্রোজেন বিফের কিছু নমুনাতেও জীবাণু পাওয়া গেছে বলে সংবাদে উল্লেখ আছে, যা খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা তুলে ধরে।
২. মানবস্বাস্থ্যে অ্যানথ্রাক্সের তিন রূপ ও মারাত্মক ঝুঁকি
অ্যানথ্রাক্স মানুষের শরীরে তিনভাবে আঘাত হানতে পারে, যার মধ্যে কিছু রূপ প্রাণঘাতী হতে পারে:

মন্তব্যসমূহ