"সন্দেহের চোখে" সবুজ পাসপোর্ট: কেন বিদেশ ভ্রমণ কঠিন হচ্ছে বাংলাদেশিদের জন্য?
একটি দেশের পাসপোর্ট কেবল ভ্রমণের ছাড়পত্র নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সেই দেশের মর্যাদা, অর্থনৈতিক সামর্থ্য এবং নাগরিকদের সততার প্রতিফলন। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার রঙের সঙ্গে মিল রেখে তৈরি আমাদের 'সবুজ পাসপোর্ট' একসময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বেশ সমাদৃত ছিল। কিন্তু গত কয়েক দশকে প্রেক্ষাপট আমূল বদলে গেছে। আজ বিশ্বের বিভিন্ন বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন লাইনে যখন একজন যাত্রী সবুজ পাসপোর্ট নিয়ে দাঁড়ান, তখন অনেক ক্ষেত্রেই তাকে অন্য দেশের নাগরিকদের তুলনায় ভিন্ন চোখে দেখা হয়।
অনেকেই মনে করেন, পাসপোর্টে ভিসার সংখ্যা বাড়লে পাসপোর্ট 'ভারী' হয়। এই ধারণা আংশিক সত্য হলেও বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে পরিস্থিতি এখন ভিন্ন। উন্নত দেশগুলো তো বটেই, এমনকি আমাদের প্রতিবেশী বা সমপর্যায়ের উন্নয়নশীল দেশগুলোও এখন বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের প্রতি এক ধরনের 'সতর্কতামূলক অনীহা' দেখাচ্ছে। এই নিবন্ধে আমরা অত্যন্ত গভীরে গিয়ে অনুসন্ধান করব—কেন আমাদের প্রিয় পাসপোর্টটি আজ বিশ্বজুড়ে এই ধরনের আস্থার সংকটে পড়ল এবং এর থেকে উত্তরণের পথই বা কী।
হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স এবং বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান
পাসপোর্টের ক্ষমতা পরিমাপের সবচেয়ে স্বীকৃত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হলো 'হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স' (Henley Passport Index)। এই সূচকটি মূলত নির্ধারণ করে একটি দেশের নাগরিকরা আগে থেকে ভিসা না নিয়ে (Visa-Free) কতটি দেশে প্রবেশ করতে পারেন। ২০২৪ এবং ২০২৫ সালের সাম্প্রতিক রিপোর্টগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের পাসপোর্টের অবস্থান ঐতিহাসিকভাবেই নিচের দিকে।
সিঙ্গাপুর, জাপান বা জার্মানির মতো দেশগুলোর নাগরিকরা যখন ১৯০টিরও বেশি দেশে বিনা ভিসায় প্রবেশাধিকার পান, তখন বাংলাদেশিদের জন্য এই সংখ্যা ৪০-এর আশেপাশে। এর মধ্যে সিংহভাগ দেশই আফ্রিকার বা ওশেনিয়া অঞ্চলের ছোট ছোট দ্বীপ রাষ্ট্র। দক্ষিণ এশিয়ায় আমাদের অবস্থান যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোর কাছাকাছি থাকাটা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এটি কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং এটি নির্দেশ করে যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আমাদের দেশের নাগরিকদের অবাধ চলাচলকে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে। এই র্যাঙ্কিং কম হওয়ার অন্যতম কারণ হলো আমাদের দেশের নাগরিকদের মাধ্যমে সংঘটিত অনিয়মিত অভিবাসন এবং ভিসার শর্ত লঙ্ঘন।
সাম্প্রতিক পরিস্থিতির ভয়াবহতা: যেখানে বাধা দিচ্ছে প্রবেশে
বিগত কয়েক বছরে ভারত, মধ্যপ্রাচ্য এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা পাওয়া এবং প্রবেশের শর্তাবলি অত্যন্ত কঠোর করা হয়েছে।
ভারতের ভিসা জটিলতা: বাংলাদেশের পর্যটকদের জন্য সবচেয়ে বড় গন্তব্য হলো ভারত। কিন্তু সম্প্রতি রাজনৈতিক অস্থিরতার পর ভারত ট্যুরিস্ট ভিসা প্রদান প্রায় বন্ধ করে রেখেছে। যারা চিকিৎসার জন্য যেতে চান, তাদেরও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এটি কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এর পেছনে গভীর নিরাপত্তা এবং কৌশলগত কারণ রয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানের নিষেধাজ্ঞা: মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো একসময় বাংলাদেশিদের জন্য অবারিত ছিল। কিন্তু বর্তমানে দুবাই বা আবুধাবিতে নতুন করে ভিজিট ভিসা পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওমানও দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নতুন ভিসা বন্ধ রেখেছিল। এর মূল কারণ ছিল—ভিজিট ভিসায় এসে কাজ খোঁজা এবং অবৈধভাবে থেকে যাওয়া।
ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার অনীহা: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশগুলো একসময় খুব সহজে ই-ভিসা বা অন-অ্যারাইভাল সুবিধা দিত। কিন্তু দেখা গেছে, অনেক বাংলাদেশি এই দেশগুলোকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে উন্নত বিশ্বে পাড়ি জমানোর চেষ্টা করেন। ফলে তারাও এখন কঠোর ভেরিফিকেশন ছাড়া ভিসা দিচ্ছে না।
সংকটের মূলে কী? কেন এই বৈশ্বিক অনীহা?
এই সমস্যার কারণগুলো কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয় নয়, বরং এটি কতগুলো নেতিবাচক অভ্যাসের সমষ্টি। অভিবাসন বিশেষজ্ঞ এবং কূটনীতিকদের মতে নিচের কারণগুলো সবচেয়ে বেশি দায়ী:
ক. ট্যুরিস্ট ভিসার আড়ালে শ্রমবাজার খোঁজা: বাংলাদেশের অনেক মানুষ মনে করেন ট্যুরিস্ট ভিসা মানেই হলো সেখানে গিয়ে কাজ পাওয়ার একটি সুযোগ। তারা দালালের মাধ্যমে ৫-১০ দিনের জন্য ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ বা মধ্যপ্রাচ্যে যান এবং ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আর ফিরে আসেন না। যখন একটি দেশের সরকার দেখে যে বাংলাদেশ থেকে আসা ১০০ জন পর্যটকের মধ্যে ২০ জনই আর ফেরত যাননি, তখন তারা স্বাভাবিকভাবেই ওই দেশের সবার জন্য নিয়ম কড়া করে দেয়।
খ. নথিপত্র জালিয়াতির সংস্কৃতি: ভিসা পাওয়ার জন্য আমাদের দেশে ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন এবং প্রফেশনাল এনওসি (NOC) জাল করার একটি বড় বাজার তৈরি হয়েছে। অনেক ট্রাভেল এজেন্সি ভুয়াকাগজপত্র দিয়ে আবেদন করে। যখন কোনো দূতাবাসের কনসুলার অফিসার এই জালিয়াতি ধরে ফেলেন, তখন তিনি কেবল ওই নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে নয়, বরং পুরো বাংলাদেশের আবেদনকারীদের ফাইলগুলোকেই সন্দেহের চোখে দেখতে শুরু করেন। এই জালিয়াতি আমাদের পাসপোর্টের বিশ্বাসযোগ্যতা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে এনেছে।
গ. মানবপাচারের রুট হিসেবে ব্যবহার: বাংলাদেশিরা এখন ইউরোপে যাওয়ার জন্য ভূমধ্যসাগরীয় রুটগুলো ব্যবহার করছেন। এই প্রক্রিয়ায় তারা লিবিয়া, তুরস্ক বা বলকান অঞ্চলের দেশগুলোকে রুট হিসেবে ব্যবহার করেন। ফলে এসব দেশ বাংলাদেশি নাগরিকদের দেখলে মনে করে তারা হয়তো অবৈধভাবে অন্য দেশে পাড়ি জমাতে চাচ্ছেন। এই 'পটেনশিয়াল মাইগ্রেন্ট' হিসেবে চিহ্নিত হওয়াটাই আমাদের পাসপোর্টের জন্য সবচেয়ে বড় অভিশাপ।
বিমানবন্দরের 'অফলোড' সংস্কৃতি এবং এর কারণ
ভিসা হাতে থাকা সত্ত্বেও বিমানবন্দর থেকে যাত্রীকে ফেরত পাঠানোকে বলা হয় 'অফলোড'। সম্প্রতি ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বা বিদেশের বিমানবন্দরে বাংলাদেশিদের অফলোড হওয়ার হার বেড়েছে। এর পেছনে কিছু যৌক্তিক কারণ রয়েছে যা প্রতিটি ভ্রমণকারীর জানা উচিত:
পর্যাপ্ত শো-মানি (Show Money) না থাকা: একজন পর্যটক যখন ১৫ দিনের ট্যুরিস্ট ভিসায় বিদেশে যান, তখন ইমিগ্রেশন অফিসার তার কাছে জানতে চান তার কাছে কত টাকা বা ডলার আছে। যদি দেখা যায় তার কাছে মাত্র ২০০ বা ৩০০ ডলার আছে, তখন অফিসার নিশ্চিত হন যে এই ব্যক্তি পর্যটক নন, বরং তিনি সেখানে কাজ খুঁজতে এসেছেন।
হোটেল বুকিং ও ট্রাভেল আইটিনারি: অনেক যাত্রী হোটেলের ঠিকানা বা কোথায় ঘুরবেন সেই পরিকল্পনা বলতে পারেন না। অনেক সময় দালালের দেওয়া ভুয়া হোটেল বুকিং ইমিগ্রেশন সিস্টেম থেকে ধরা পড়ে।
আচরণ ও আত্মবিশ্বাসের অভাব: বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে না পারা বা ঘাবড়ে যাওয়া সন্দেহের জন্ম দেয়। আমাদের দেশের অনেক যাত্রী ইংরেজি বা গন্তব্য দেশের ভাষায় প্রাথমিক যোগাযোগটুকুও করতে পারেন না, যা ইমিগ্রেশন অফিসারদের জন্য একটি বড় রেড ফ্ল্যাগ।
দালাল চক্র ও ডিজিটাল অপরাধের যোগসূত্র
আমাদের গ্রামগঞ্জের সাধারণ মানুষ এখনো দালালের ওপর নির্ভরশীল। এই দালালরা তাদের বোঝায় যে, "একবার ও দেশে ঢুকতে পারলে কপালে সুখ আছে।" এই প্রলোভনে পড়ে মানুষ ভিজিট ভিসাকে কাজের ভিসা মনে করে ভুল করে। অন্যদিকে, কিছু অপরাধী চক্র বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে ক্রেডিট কার্ড ফ্রড বা সাইবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে বিদেশের মাটিতে। বিদেশের পুলিশের ডেটাবেজে যখন অপরাধী হিসেবে বাংলাদেশি নাগরিকদের নাম বারবার আসে, তখন সেই দেশের সরকার নীতিগতভাবেই বাংলাদেশিদের ভিসা সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেয়।
হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারে করণীয়: রাষ্ট্র ও নাগরিকের ভূমিকা
এই পরিস্থিতির পরিবর্তন একদিনে হবে না। এর জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন।
রাষ্ট্রের ভূমিকা: সরকারকে প্রতিটি দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াতে হবে। বিশেষ করে যেসব দেশ আমাদের জন্য ভিসা বন্ধ করে রেখেছে, তাদের আশ্বস্ত করতে হবে যে আমাদের নাগরিকরা সেখানে গিয়ে বিশৃঙ্খলা করবে না। আমাদের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাকে আরও ডিজিটাল এবং ডেটা-চালিত করতে হবে যাতে কোনো জাল পাসপোর্টধারী বা অপরাধী দেশ ছাড়তে না পারে। যারা বিদেশের মাটিতে অপরাধ করছে বা ওভার-স্টে করছে, তাদের পাসপোর্ট বাতিলের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।
নাগরিকের ভূমিকা: একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমাদের বুঝতে হবে যে আমরা দেশের প্রতিনিধি।
১. কখনোই জাল কাগজপত্র দিয়ে ভিসার আবেদন করবেন না।
২. ট্যুরিস্ট ভিসায় গিয়ে কাজ করার চেষ্টা করা আইনগত অপরাধ এবং এটি পুরো জাতির জন্য কলঙ্ক।
৩. ভ্রমণের আগে সেই দেশের আইন, সংস্কৃতি এবং ইমিগ্রেশন নিয়ম সম্পর্কে জানুন।
৪. পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা এবং বৈধ হোটেল বুকিং ছাড়া ভ্রমণে বের হবেন না।
ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ানোর কার্যকরী টিপস
আপনার পাসপোর্টকে শক্তিশালী করতে হলে আপনাকে কিছু কৌশল অবলম্বন করতে হবে:
ট্রাভেল হিস্ট্রি তৈরি করা: শুরুতেই বড় কোনো দেশে (যেমন আমেরিকা বা লন্ডন) আবেদন না করে প্রথমে ছোট দেশগুলোতে (যেমন নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা বা থাইল্যান্ড) ঘুরুন। আপনার পাসপোর্টে যখন ৪-৫টি দেশের 'এন্ট্রি' এবং 'এক্সিট' সিল থাকবে, তখন বড় দেশগুলো আপনাকে বিশ্বাস করবে যে আপনি একজন প্রকৃত পর্যটক এবং আপনি দেশে ফেরত আসবেন।
সঠিক নথিপত্র: আপনার ব্যাংক স্টেটমেন্টে অন্তত গত ৬ মাসের নিয়মিত লেনদেন রাখুন। যদি ব্যবসায়িক কাজে যান, তবে আপনার ট্রেড লাইসেন্স এবং ট্যাক্স ফাইল আপডেট রাখুন।
সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতি: দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার সময় সৎ থাকুন। আপনার ভ্রমণের উদ্দেশ্য কী এবং আপনি কেন ফেরত আসবেন (যেমন আপনার চাকরি, পরিবার বা সম্পত্তি)—তা স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে বলুন।
সচেতনতাই আমাদের শক্তি
সবুজ পাসপোর্ট আমাদের জাতীয় সত্তার অংশ। এটি বিদেশের মাটিতে আমাদের একমাত্র পরিচয়। কিন্তু আমাদের কিছু মানুষের অবিবেচক কাজ এবং অবৈধ অভিবাসনের নেশা আজ আমাদের এই পরিচয়কে বিশ্ব দরবারে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। 'সন্দেহের চোখে' দেখা এই পাসপোর্টকে পুনরায় 'সম্মানের চোখে' দেখার অবস্থানে নিয়ে আসার দায়িত্ব আমাদের সবার।
প্রতিটি ভ্রমণকারীকে মনে রাখতে হবে—বিদেশের মাটিতে আপনি কেবল একজন ব্যক্তি নন, আপনি বাংলাদেশ। আপনার একটি ভুল পদক্ষেপ যেমন দেশের সম্মান নষ্ট করতে পারে, তেমনি আপনার একটি সুশৃঙ্খল ভ্রমণ আমাদের পাসপোর্টের শক্তি বৃদ্ধি করতে পারে। আসুন আমরা নিয়ম মানি, দেশকে ভালোবাসি এবং সবুজ পাসপোর্টের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনি। দালালের প্রলোভন এবং অবৈধ অভিবাসনের অন্ধকার পথ থেকে নিজেকে এবং অন্যকে রক্ষা করি। কেবল সচেতনতা এবং আইন মেনে চলাই পারে আমাদের এই সংকট থেকে মুক্তি দিতে। আপনার একটি সচেতন পদক্ষেপই হতে পারে আমাদের পাসপোর্টের মর্যাদা পুনরুদ্ধারের প্রথম ধাপ। কোনো অবস্থাতেই দেশের মর্যাদা বিসর্জন দেবেন না।

মন্তব্যসমূহ