গাঁজা খেয়ে মালালা ইউসুফজাইয়ের স্মৃতিতে ফিরলো তালেবানের সেই বিভীষিকা!
গাঁজা সেবন: মালালা ইউসুফজাইয়ের জীবনে ফিরে এলো তালেবানের সেই বিভীষিকা!
—মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে এক নোবেলজয়ীর অকপট স্বীকারোক্তি
নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মালালা ইউসুফজাই, যিনি নারী শিক্ষায় তার অদম্য সাহসিকতার জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। প্রায় এক দশক আগে তালেবানদের আক্রমণের শিকার হয়েও তিনি মাথা নোয়াননি, বরং সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। কিন্তু জানেন কি, এই সাহসী মানুষটির জীবনেও রয়েছে এক গভীর মানসিক সংগ্রাম, যা প্রমাণ করে—বড় ধরনের মানসিক আঘাতের রেশ সহজে মোছে না।
সম্প্রতি মালালা তার ব্যক্তিগত জীবনের এক চাঞ্চল্যকর অভিজ্ঞতার কথা খোলাখুলি জানিয়েছেন, যা মানসিক স্বাস্থ্য ও ট্রমার গুরুত্ব সম্পর্কে আমাদের নতুন করে ভাবতে শেখায়।
গাঁজা সেবনের পর ফিরে এলো ১৩ বছরের পুরনো ট্রমা
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্ধুদের সাথে এক রাতের আড্ডায় মালালা ইউসুফজাই গাঁজা সেবন করেছিলেন। আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ এই ঘটনাটিই তার জীবনে এক মারাত্মক প্রভাব ফেলে। গাঁজা সেবনের পর মুহূর্তেই এক বিভীষিকাময় স্মৃতি তাকে গ্রাস করে—১৩ বছর আগের সেই ভয়ানক মুহূর্তটি, যখন তালেবানরা তাকে গুলি করেছিল।
এই অভিজ্ঞতা তাকে শিখিয়েছে যে, শারীরিক আঘাতের চেয়ে মানসিক আঘাতের গভীরতা অনেক বেশি।
শারীরিক উপসর্গে মানসিক কষ্টের বহিঃপ্রকাশ
এই ঘটনার পর মালালার মধ্যে চরম আতঙ্ক, ঘুমহীনতা এবং উদ্বেগ দেখা দেয়। তার শরীরে ঘাম, কাঁপুনি ও দ্রুত হৃদস্পন্দনের মতো শারীরিক উপসর্গগুলোও ফিরে আসে। তিনি বুঝতে পারেন, যে আঘাতকে তিনি জয় করেছেন বলে মনে করেছিলেন, তার গভীর ক্ষত এখনও বিদ্যমান।
মালালা দ্রুত একজন থেরাপিস্টের শরণাপন্ন হন। থেরাপিস্ট তার অবস্থা বিশ্লেষণ করে জানান, এই মানসিক কষ্টের মূল কারণ হলো—তালেবানের গুলির মানসিক আঘাত, শৈশবের ভয় এবং পড়াশোনার চাপ। একটি নির্দিষ্ট উদ্দীপকের প্রভাবে (যেমন গাঁজা সেবন) সেই চাপা ট্রমাটি আবার জেগে উঠেছে।
মালালার উপলব্ধি: নীরব শত্রু মানসিক আঘাত
নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে মালালা বলেন, “আমি ভেবেছিলাম আমি বেঁচে গেছি, কিছুই আমাকে ভয় দেখাতে পারবে না। কিন্তু ছোট ছোট জিনিসেও ভয় পেতে শুরু করলাম, আর তাতেই ভেঙে পড়লাম।”
মালালার এই স্বীকারোক্তি আমাদের সবার জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। তিনি প্রমাণ করলেন যে, মানসিক আঘাত একটি নীরব শত্রু; এটি শরীরের ভেতর লুকিয়ে থাকে এবং অপ্রত্যাশিত মুহূর্তে প্রবলভাবে ফিরে আসতে পারে। মালালার মতো একজন আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব যখন তার মানসিক সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন, তখন মানসিক স্বাস্থ্যকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ থাকে না। আমাদের বোঝা উচিত, ট্রমা বা মানসিক চাপ মোকাবেলা করা সাহসিকতারই অংশ।
সংবাদ সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক।

মন্তব্যসমূহ