সেফ এক্সিট বিতর্ক: উপদেষ্টার কড়া জবাব এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভাবনা

 


সম্প্রতি দেশের রাজনৈতিক মহলে ‘সেফ এক্সিট’ (নিরাপদ প্রস্থান) নিয়ে যে বিতর্ক শুরু হয়েছে, তাতে নতুন মাত্রা যোগ করলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। কিংস পার্টি জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তার সরাসরি জবাব রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।

নাহিদ ইসলাম সম্প্রতি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে অভিযোগ করেন যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের অনেকেই নাকি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন এবং নিজেদের ‘নিরাপদ প্রস্থান’-এর পথ খুঁজছেন। এই মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই সরকারের অভ্যন্তরে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

উপদেষ্টা রিজওয়ানার সোজাসাপ্টা চ্যালেঞ্জ

বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সরাসরি নাহিদ ইসলামের এই মন্তব্যের জবাব দেন। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন যে, যারা ‘সেফ এক্সিট’ নিতে চান, নাহিদ ইসলামকেই তাদের নাম পরিষ্কারভাবে বলতে হবে।

নিজের অবস্থানের বিষয়ে তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট: “দেশের বিভিন্ন সময়ে নানা ঝড়-ঝঞ্ঝায় কোথাও পালিয়ে যাইনি। আগামীতেও দেশে থাকবো।” তার এই বক্তব্য কেবল ব্যক্তিগত অঙ্গীকার নয়, বরং একটি বার্তা— বর্তমান পরিস্থিতিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টারা দেশের মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ। এটি স্পষ্ট করে যে, তিনি বা তার মতো অন্য উপদেষ্টারা দায়িত্ব ফেলে যাওয়ার কথা ভাবছেন না।

স্বচ্ছ নির্বাচনের অঙ্গীকার

'সেফ এক্সিট' বিতর্কের বাইরেও উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নির্বাচন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, সরকার একটি স্বচ্ছ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) সর্বোচ্চ সহায়তা দিতে প্রস্তুত। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করাই যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান লক্ষ্য, তার বক্তব্যে সেটাই পুনরায় প্রমাণিত হয়েছে।

তবে, আগামী নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নির্ভর করবে পুরোপুরি আইনি বিষয় এবং সংশ্লিষ্ট দলের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর— এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সরকারের হস্তক্ষেপ না করার নীতিগত অবস্থান তুলে ধরেন।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতিটি সদস্যের ভূমিকা যখন প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে, তখন সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের মতো একজন উপদেষ্টার কড়া জবাব এবং জনগণের সামনে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার এই পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। এই বিতর্ক হয়তো আরও কিছুদিন চলবে, তবে এখন দেশের সব পক্ষের মনোযোগ থাকা উচিত একটি নির্দিষ্ট দিকে: একটি গ্রহণযোগ্য এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। এখন সময় কথার চেয়ে কাজে বেশি মনোযোগ দেওয়ার।

মন্তব্যসমূহ