স্ত্রী কর্তৃক লেবাসধারী আবু ত্বহা মোহাম্মদ আদনান এর মুখোশ উন্মোচন
আলোচিত বক্তা আবু ত্বহা মোহাম্মদ আদনান: স্ত্রীর ‘গোপন প্রেম’ বিষয়ক বিস্ফোরক স্ট্যাটাস ও সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়
রংপুরের জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা আবু ত্বহা মোহাম্মদ আদনানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফের নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এবার এই বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন স্বয়ং তার স্ত্রী সাবিকুন নাহার (সারাহ)। গত শনিবার (১১ অক্টোবর, ২০২৫) সকালে তিনি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি দীর্ঘ পোস্ট শেয়ার করেছেন, যেখানে তিনি তার স্বামীর বিরুদ্ধে গুরুতর কিছু অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। এই পোস্টটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে উঠেছে এবং ভক্ত-সমালোচক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
স্ত্রীর ফেসবুক পোস্ট: কী ছিল সেই অভিযোগে?
সাবিকুন নাহার সারাহ তার পোস্টে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, আবু ত্বহা আদনান বর্তমানে তার ১৫ বছর পুরোনো কলেজ জীবনের প্রেমিকা—নাম জারিন জেবিন—যার পেশা একজন এয়ার হোস্টেস, তার সাথে 'গোপন প্রেমে' মজেছেন।
তার অভিযোগ অনুযায়ী, বক্তা আদনান ও ওই নারীর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে:
* তারা নিয়মিত চ্যাট বক্সে গভীর 'ফিলিংস' আদান-প্রদান করছেন এবং ঘন্টার পর ঘন্টা ফোনে কথা বলছেন।
* আদনান তার প্রতিষ্ঠিত দ্বীনি প্রতিষ্ঠান 'যিন্নুরাঈন সেন্টার'-এ বসেই প্রেমিকার সাথে ফোনে কথা বলেন এবং অফিস রুমে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ করেন।
* সারাহর সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো, "আসলে আপনাদের দেওয়া টাকায় গড়া তার প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন আয়োজন ও ক্লাসের নামে যেকোনো নারীর সাথে একান্তে মিট করার কারখানা।" তিনি আরও বলেন, যে কো-এডুকেশন শিক্ষার বিরোধিতা আদনান তার বয়ানে করেন, তারই প্রতিষ্ঠানগুলোতে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশার ব্যবস্থা রয়েছে।
* তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, আদনান তার বিছানায় বসেও এয়ার হোস্টেস ওই নারীর সাথে প্রেম করেন এবং সেন্টারে কাজ থাকার অজুহাতে রাত ৩টায় বাসায় ফেরেন।
আরেক আলেমা মেয়ের প্রসঙ্গ
জারিন জেবিনের সাথে সম্পর্ক তৈরির আগে আদনান আরেকজন আলেমা মেয়েকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, যিনি তাদের একটি ওমরাহ প্রতিযোগিতার ছাত্রী ছিলেন। সারাহ দাবি করেন, সেই মেয়ের বাবা-ভাইয়ের সাথেও কথা হয়েছিল। কিন্তু এয়ার হোস্টেসের সাথে যোগাযোগ হওয়ার পর তিনি আলেমা মেয়েটির সাথে বিয়েতে অস্বীকৃতি জানান।
সত্য প্রকাশের কারণ ও পরিণতি
সাবিকুন নাহার পোস্টের কমেন্টে জানান যে, তিনি নিছক সন্দেহের বশে লেখেননি। তিনি সংশোধনের আশায় আগের পোস্ট ডিলিট করলেও স্বামীর কোনো পরিবর্তন আসেনি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তার এই 'সত্য প্রকাশের ফলে' ভক্তরা সচেতন হবেন এবং আবু ত্বহা আদনান চূড়ান্ত রূপে সংশোধন হয়ে দ্বীনের বড় উপকারে আসবেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, তাকে এই বিষয়গুলোর সাথে একাত্মতা প্রকাশের জন্য 'প্রচন্ড প্রেশার' দেওয়া হয়েছে এবং রাজি না হওয়ায় ২ বছর ধরে নানাভাবে হয়রানি ও অপমানের শিকার হয়েছেন। নিজের মানসিক ও শারীরিক কষ্টের কারণে তিনি এই মাসের জন্য তার অনলাইন তালিম (শিক্ষাদান) স্থগিতের ঘোষণাও দিয়েছেন।
জনপ্রিয় একজন ইসলামী বক্তার ব্যক্তিগত জীবনের এমন গুরুতর অভিযোগ স্বাভাবিকভাবেই সামাজিক মাধ্যমে ঝড় তুলেছে। তার স্ত্রী সাবিকুন নাহারের এই বিস্ফোরক স্ট্যাটাস তার অনুসারী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। পরিস্থিতি এখন বক্তা আবু ত্বহা আদনানের মন্তব্যের অপেক্ষায়। সাবিকুন নাহার তার ও তার সন্তানদের জন্য সকলের কাছে দোয়ার আবেদন জানিয়েছেন। এই ঘটনা প্রমাণ করে, পাবলিক ফিগারদের ব্যক্তিগত জীবনও কীভাবে নিমিষেই গণ বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে।

মন্তব্যসমূহ