পুলিশ গার্লফ্রেন্ড- রোমান্টিক প্রেমের গল্প: বারো পর্ব
পুলিশ গার্লফ্রেন্ড
(রোমান্টিক প্রেমের গল্প)
দ্বাদশ পরিচ্ছেদ
নওরোজ বিপুল
বন্ধুর সাথে নূমার প্রপোজাল নিয়ে আলাপ করতে বসলো কারীব। বসলো তাদের দৈনন্দিন আড্ডা দেয়ার টি-স্টলে। কাপের পর কাপ চা সাবার করে দিলো ওরা। একটার পর একটা সিগারেট পুড়িয়ে ধোঁয়ায় উড়িয়ে দিলো। কারীবের বলা শুনতে থাকলো নাযীর। শোনা শেষ করে আবার একটা সিগারেট ধরালো।
সিগারেটে লম্বা একটা টান দিয়ে, সরু করে ধোঁয়া ছাড়লো নাযীর। বলল, ‘তরে তো আমি হেইদিনই বলছিলাম, নূমা ফোন কইরা তরে প্রপোজ করবো।’
‘প্রপোজ তো কইরাই ফালাইছে।’ বলল কারীব, ‘আমি অহনো হাঁ না কিছু কইনাই। কিন্তু শালী তো নিজেরে আমার গার্লফ্রেন্ড ধইরা লইয়া বইসা রইছে।’
‘আমি যে পরামর্শ দিমু, হেইডা হুনবি?’
‘বল।’
‘বেডির প্রপোজ এক্সেপ্ট কইরা ল।’
‘কী কস, পুলিশ বেডির প্রপোজ এক্সেপ্ট করতাম?’
‘আরেহ্ ভাই, হের প্রফেশনডারে দূরে সরাইয়া রাখ।’ বলল নাযীর, ‘মাইয়াডা শিক্ষিতা সুন্দরী বুদ্ধিমতী। কোনো মাইয়ার ভিতরেই এমন কম্বিনেশন পাবি না। বিয়া কখন কার লগে হইবো, হেই সিদ্ধান্ত তো…’ হঠাৎ থেমে উপরের দিকে নিজের তর্জনী তাক করলো নাযীর।
ওর তর্জনী অনুসরণ করে কারীবও উপরের দিকে তাকালো। চা দোকানদার মামার চায়ের দোকানের উপর, পলিথিন আর বাঁশের ছাউনি। সেই ছাউনিই চোখে পড়লো কারীবের। নাযীর উপরের দিকে তর্জনী তাক করে রেখেই, নিজের কথার ধারাবাহিকতায় বলল, ‘আকাশের উপর থিকা আইবো। আপাতত সুন্দরী একটা মাইয়ার লগে রিলেশনের মজাডা লইয়া ল।’
‘তাইলে, হের লগে কফি খাইতে যাইতে কইতেছোস?’
‘হ কইতেছি। তয়, রিলেশনের পরে যেহেতু ফার্স্ট মিট, হের জন্য তর একটা গিফট নিয়া যাওন দরকার।’
‘কী গিফট লইয়া যামু?’
‘মনে মনে কী ভাবছোস?’
‘ভাবছি তো অনেক কিছু।’
‘প্রত্থমে যেইডা ভাবছোস, হেইডা ক।’
‘শাড়ি!’
‘ইয়েস!’ তুড়ি বাজিয়ে বলল নাযীর, ‘আমিও হেইডাই ভাবছি।’ তড়িৎ গতিতে উঠে দাঁড়ালো সে, ‘ল, যাইগা। মার্কেটে যাইয়া সোন্দর একডা শাড়ি কিন্যা লইয়া আহি।’
চা সিগারেটের বিল পরিশোধ করলো নাযীর। কারীবকে নিয়ে বের হলো। হাঁটতে হাঁটতে দুই বন্ধু চলে আসলো নিউ মার্কেটে। মেয়েদের মতো দীর্ঘ সময় নিয়ে এ দোকান থেকে, সেই দোকান ঘুরলো। প্রায় দুই ঘন্টা ঘুরাঘুরির পর, কারীব নিজের পছন্দের রঙের একটা শাড়ি পেলো। জর্জেট কাপড়ের উপর চমৎকার ডিজাইন এম্ব্রয়ডারি করা আছে। এক দৃষ্টিতেই শাড়িটা দুই বন্ধুরই পছন্দ হয়ে গেলো। দোকানদার দাম চাইলো প্রচুর। দামাদামি করতে করতে, দোকানদারের চাওয়া দামের প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে আনলো ওরা। শাড়িটা নিয়ে ক্রেডিট কার্ড দিয়ে দাম পরিশোধ করলো কারীব। ব্লাউজ পিস শাড়ির সাথেই আছে। অন্য আরেকটা দোকান থেকে, শাড়ির সাথে ম্যাচ করে পেটিকোটের কাপড় কিনলো। শুধু শাড়ি ব্লাউজ পেটিকোট যথেষ্ট নয়। সাথে মেয়েরা আরো অন্তর্বাস পরে। অনুমান করে তিনটা প্যান্টি কিনলো ওরা। ব্রা কিনতে গিয়ে পারলো না। স্বাভাবিকভাবেই নূমার ব্রা’র সাইজ জানে না কারীব।
‘এখন রাইখা দে।’ বলল নাযীর, ‘পরে সাইজ জাইনা নিয়া কিন্যা দিস।’
কারীবও সেটাই ভাবলো। পরে কোনো এক সময় নূমার কাছ থেকে ওর ব্রা’র সাইজ জেনে নেয়া যাবে। কিন্তু একটা মেয়ের ব্রা’র সাইজ জানা তো অতোটা সহজ কাজও নয়। সেটা জানার জন্য অনেক ঘনিষ্টতা দরকার।
কেনাকাটা শেষ করে, আবার সেই টি-স্টলে ফিরে আসলো ওরা। ভেতরে এসে বসলে, দোকানদার দুইটা সিগারেট দিলো দুজনকে। বলল, ‘মামা, হেই পুলিশ ম্যাডাম আইছিলো। আপনেগের খোঁজ করছে।’
একে অপরের দিকে তাকালো কারীব, নাযীর। অর্থাৎ নূমা এসেছিল। ভালোই হয়েছে সে আগেই চলে গেছে। শাড়ি কিনে ফিরে আসার পর যদি আসতো, তাহলে তো মজাই শেষ হয়ে যেতো। নাযীর বলল, ‘কিছু কইছে, মামা?’
‘তিমন কিছু কইনাইক্কা।’ বলল চা দোকানদার, ‘আমার লগে কতা কইলো আর আপনেগের কতা জিগাইলো।’
কারীব জানতে চাইলো, ‘তুমি কী বলছো মামা?’
‘কইলাম, আপনেরা আইছিলেন, আবার চইলা গেছেন।’
ওরা যে শাড়ি কিনতে গিয়েছিল, তা দোকানদার বুঝতে পারেনি। নূমাকে বলেওনি। সুতরাং, গিফটের ব্যাপারটা ফাঁস হয়নি বলেই মনে হলো।

মন্তব্যসমূহ