সাংবিধানিক পদের দায়িত্বহীনতা: ‘একটু খুনখারাবি হয়’—সিইসি’র মন্তব্য কি এক ভয়াবহ আত্মসমর্পণের দলিল?
এক অপ্রত্যাশিত উক্তি ও গভীর উদ্বেগ
গণতন্ত্রের ভিত্তি সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন (ইসি) হলো রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। এই সাংবিধানিক সংস্থাটির প্রধান যখন জনসমক্ষে এমন মন্তব্য করেন, যা কিনা জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার মতো মৌলিক বিষয়কে লঘু করে দেখে, তখন তা কেবল বিতর্ক নয়, গভীর উদ্বেগের জন্ম দেয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনের সাম্প্রতিক একটি মন্তব্য জাতীয় রাজনীতি ও সুশীল সমাজের কেন্দ্রবিন্দুতে তীব্র সমালোচনার ঝড় তুলেছে। তিনি যখন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, “আইনশৃঙ্খলার অবনতি হলো কোথায়? একটু মাঝেমধ্যে দু–একটা খুনখারাবি হয়,” তখন প্রশ্ন ওঠে—একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান কি তবে সহিংসতা ও হত্যার মতো অপরাধকে ‘স্বাভাবিক’ হিসেবে দেখতে শুরু করেছেন?
এই বক্তব্যটি কেবল সিইসি’র ব্যক্তিগত মতামত হিসেবে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এটি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ একটি সংস্থার শীর্ষ ব্যক্তির কণ্ঠস্বর, যা আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া শঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। বিশেষত যখন রাজনৈতিক সহিংসতা, যেমন সাম্প্রতিক ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলির মতো ঘটনা, আলোচনার কেন্দ্রে, তখন সিইসি’র এই ‘স্বাভাবিকীকরণ’ করার চেষ্টা অত্যন্ত দুঃখজনক ও বিপজ্জনক। এই প্রবন্ধে আমরা সিইসি’র এই মন্তব্যের নিবিড় বিশ্লেষণ, সংবাদপত্রে এর প্রতিফলন, বিশেষজ্ঞ মতামত এবং একটি সাংবিধানিক পদের কাছ থেকে সমাজের প্রত্যাশিত দায়িত্ববোধের জায়গাটি গভীরভাবে খতিয়ে দেখব। এই বিশ্লেষণ ধর্মী নিবন্ধটি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইসির ভূমিকা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নৈতিক অবস্থান নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা উপস্থাপন করবে।
মন্তব্যের পটভূমি ও নিবিড় বিশ্লেষণ: ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’র তত্ত্ব
সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দীন আলোচিত মন্তব্যটি করেন রাজধানীর একটি কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে, যার উদ্দেশ্য ছিল তরুণ ভোটারদের ভোটদানে উৎসাহিত করা। স্বাভাবিকভাবেই, সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল আইনশৃঙ্খলার অবনতি সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বাধা সৃষ্টি করবে কি না। এই প্রশ্নের জবাবেই সিইসি তাঁর বিখ্যাত উক্তিটি করেন। তিনি তাঁর অবস্থানকে সুদৃঢ় করতে গিয়ে বেশ কয়েকটি গুরুতর যুক্তি উপস্থাপন করেন, যার প্রতিটিই সমালোচনার দাবি রাখে।
প্রথমত, তিনি হাদিকে গুলির ঘটনাটিকে “বিচ্ছিন্ন ঘটনা” বলে আখ্যায়িত করেন। গণতন্ত্রে, বিশেষ করে নির্বাচনকালীন সময়ে, রাজনৈতিক সহিংসতার প্রতিটি ঘটনাই গুরুত্বের সাথে দেখার দাবি রাখে। একটি গুলি বা খুন যখন জনমনে ভীতি সৃষ্টি করে, তখন তাকে বিচ্ছিন্ন বলে উড়িয়ে দেওয়া কেবল দায়িত্বজ্ঞানহীনতা নয়, বরং অপরাধীদের আরও উৎসাহিত করার শামিল। সিইসি’র এই বক্তব্য প্রকারান্তরে এই বার্তা দেয় যে, দু’একটি প্রাণহানি হলেও তা নির্বাচনের সামগ্রিক পরিবেশের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না—যা একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মূল চেতনার পরিপন্থী।
দ্বিতীয়ত, সিইসি তাঁর মন্তব্যের সপক্ষে অতীতের কয়েকটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের (যেমন সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া ও সংসদ সদস্য আহসানউল্লাহ মাস্টারের খুন) উদাহরণ টেনে আনেন এবং বলেন, “নির্বাচন এলে এ ধরনের ঘটনা ঘটতেই থাকে। বাংলাদেশে এগুলো নতুন কিছু নয়।” এই তুলনাটিই সম্ভবত সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত। অতীতে সংঘটিত গুরুতর অপরাধকে বর্তমানের অপরাধকে ‘স্বাভাবিক’ প্রমাণ করার জন্য ব্যবহার করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। একজন সাংবিধানিক প্রধানের কাছ থেকে এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি আশা করা হয়, তাদের কাছ থেকে অপরাধের ‘ঐতিহাসিক স্বাভাবিকতা’র পাঠ নয়। এই মন্তব্য কার্যত অপরাধের কাছে একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নৈতিক আত্মসমর্পণ।
তৃতীয়ত, তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি প্রমাণ করতে গিয়ে “২০২৪ সালের ৫ আগস্টের সঙ্গে তুলনা” করেন। এই তুলনাটি অত্যন্ত কৌশলগত। একটি চরম অস্থিতিশীল সময়ের সাথে বর্তমানের পরিস্থিতিকে তুলনা করে ‘উন্নতি’ দাবি করা মানেই এই নয় যে পরিস্থিতি আদর্শ বা নির্বাচন উপযোগী। জনগণের প্রত্যাশা হলো, একটি নির্বাচনকালে পরিস্থিতি এমন হবে যেখানে কোনো প্রকার খুনখারাবি বা সহিংসতার লেশমাত্র থাকবে না। সামান্যতম সহিংসতার ঘটনাও যেখানে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশকে কলুষিত করার ক্ষমতা রাখে, সেখানে ‘দু-একটা খুনখারাবি’ মেনে নেওয়া ইসির নিরপেক্ষতা ও কার্যকারিতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করে।
সংবাদ বিশ্লেষণ ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া: ক্ষোভ ও উদ্বেগের ঢেউ
সিইসি’র এই মন্তব্যটি জাতীয় গণমাধ্যমে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়েছে। প্রায় প্রতিটি দৈনিক পত্রিকা, অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং টেলিভিশন চ্যানেল তাদের শিরোনামে এই উক্তিটিকে স্থান দিয়েছে। সংবাদমাধ্যমগুলোর বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদনে এই উক্তির তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। মূলত, সংবাদমাধ্যমগুলো সিইসি’র বক্তব্যকে জনগণের জানমালের নিরাপত্তার প্রতি চরম উদাসীনতা এবং সাংবিধানিক পদের গুরুত্বের প্রতি অশ্রদ্ধা হিসেবে চিত্রিত করেছে। তারা মনে করছে, যে প্রতিষ্ঠানটি ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বে, সেই প্রতিষ্ঠানের প্রধান যখন খুনের ঘটনাকে ‘স্বাভাবিক’ বলে ব্যাখ্যা করেন, তখন সাধারণ ভোটারদের আস্থা তলানিতে পৌঁছায়।
রাজনৈতিক অঙ্গনেও এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে ক্ষোভের ঢেউ উঠেছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো, যারা নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এমনিতেই শঙ্কিত, তারা সিইসি’র বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, জামায়াতে ইসলামীর আমিরসহ অন্যান্য বিরোধী নেতারা অবিলম্বে সিইসি’র এই দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যের ব্যাখ্যা দাবি করেছেন। তাদের মতে, যখন দেশের মানুষ একটি গ্রহণযোগ্য ও ভীতিমুক্ত নির্বাচনের পরিবেশ চাইছে, তখন সিইসি’র এমন মন্তব্য জনগণকে আতঙ্কিত করে তুলবে এবং ইসির নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয় সৃষ্টি করবে। গণসংহতি আন্দোলনের মতো দলগুলোও নির্দিষ্ট নির্বাচনী এলাকার প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে, যা প্রমাণ করে যে আইনশৃঙ্খলার অবনতি জনপরিসরে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয়, যা সিইসি স্বীকার করতে নারাজ।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রধানের এ ধরনের বক্তব্য দেশের আইনি ও রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এটি কেবল ইসির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে না, বরং দেশের অন্যান্য উচ্চ সাংবিধানিক পদের নৈতিক অবস্থানকেও দুর্বল করে দেয়। যখন রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারীরা এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করেন, তখন তা দেশের সামগ্রিক জবাবদিহি ও সুশাসনের সংস্কৃতিকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দেয়।
সাংবিধানিক পদের গুরুত্ব ও দায়িত্ববোধের সংকট
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদটি সংবিধান দ্বারা সৃষ্ট। এর স্বাধীনতা, নিরপেক্ষতা ও দায়িত্ববোধের ওপর নির্ভর করে একটি জাতির গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ। এই পদের মর্যাদা কোনোভাবেই রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক পদের সমতুল্য নয়। সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিরা সাধারণত নৈতিকতার মানদণ্ড, নিরপেক্ষতা এবং জনগণের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে তার পদকে মহিমান্বিত করেন।
কিন্তু সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দীনের মন্তব্য সেই নৈতিক অবস্থানকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। প্রশ্ন হলো, একজন সিইসি কি শুধু নির্বাচনের আয়োজনকারী, নাকি তিনি জনগণের সাংবিধানিক অধিকার, যার মধ্যে জীবন ও নিরাপত্তার অধিকারও অন্তর্ভুক্ত, তার রক্ষক হিসেবেও কাজ করেন? সিইসি’র দায়িত্ব কেবল ভোট গ্রহণ নিশ্চিত করা নয়, বরং এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা যেখানে প্রতিটি নাগরিক নির্ভয়ে, স্বাধীনভাবে তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে। যখন একজন ভোটার জানেন যে তার জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে সাংবিধানিক প্রধানই উদাসীন, তখন সেই ভোটার ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সাহস হারান।
ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন বারবার বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছে। বিভিন্ন সময়ে গঠিত কমিশনগুলো—বিশেষ করে বিচারপতি এম এ আজিজ কমিশন, কে এম নূরুল হুদা কমিশন এবং তার পূর্ববর্তী কমিশনগুলো—জনগণের আস্থা অর্জন করতে বারবার ব্যর্থ হয়েছে। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর মতো সংস্থাগুলো বহু বছর ধরে ইসির পক্ষপাতিত্ব ও দুর্বল নির্বাচন ব্যবস্থাপনার সমালোচনা করে আসছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই বিতর্কিত ধারাবাহিকতার মধ্যেই সিইসি’র বর্তমান মন্তব্যটি যেন এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তাঁর এই বক্তব্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের দীর্ঘদিনের অনাস্থাকে আরও শক্তিশালী করেছে। ড. বদিউল আলম মজুমদারের মতো নির্বাচন বিশ্লেষকরা পূর্ববর্তী কমিশনকে নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংসের জন্য দায়ী করেছেন। সিইসি’র বর্তমান বক্তব্য সেই ধ্বংসাত্মক প্রক্রিয়ারই একটি ধারাবাহিকতা, যেখানে অপরাধকে লঘু করে দেখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞ মতামত ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব: আইনশৃঙ্খলার বৃহত্তর সংজ্ঞা
সুশীল সমাজ ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আইনশৃঙ্খলার সংজ্ঞা শুধু ‘খুনখারাবি’র মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আইনশৃঙ্খলার মানে হলো—রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের উপর হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন, কালো টাকার ব্যবহার এবং প্রশাসন ও পুলিশের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা। সিইসি যখন কেবল খুনকে ‘বিচ্ছিন্ন’ বলে বাদ দিতে চান, তখন তিনি বৃহত্তর নির্বাচনী সহিংসতার চিত্রকে এড়িয়ে যান।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে তার প্রথম শিকার হয় সাধারণ ভোটার ও মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক কর্মীরা। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ইসির নৈতিক দায়িত্ব। যখন নির্বাচনকে সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ বিরোধী নেতা ও প্রার্থীরা আক্রান্ত হন (যেমন ওসমান হাদির ওপর আঘাত), তখন সিইসি’র এই ধরনের ‘স্বাভাবিক’ ব্যাখ্যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিকোণ থেকে, এই মন্তব্য বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও সাংবিধানিক নৈতিকতার জন্য একটি বিপদ সংকেত। সিইসি’র মন্তব্য এটি স্পষ্ট করে যে, সাংবিধানিক পদে থাকা সত্ত্বেও তাঁর কাছে জনগণের মৌলিক নিরাপত্তার চেয়ে নির্বাচনকে কোনোমতে সম্পন্ন করাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই মনোভাব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা ও মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। জনগণ যদি মনে করে যে সাংবিধানিক প্রধানও অপরাধের কাছে নতিস্বীকার করছেন বা অপরাধকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন, তাহলে তারা বিচার ও নিরাপত্তার জন্য কার ওপর ভরসা রাখবে? এই ধরনের বক্তব্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিকেই দুর্বল করে দেয় এবং সমাজের গভীরে নিরাপত্তাহীনতার বীজ বপন করে।
বস্তুত, এই মন্তব্য শুধুমাত্র একটি অসতর্ক উক্তি নয়। এটি হলো একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের আত্মরক্ষার চেষ্টা, যা কঠিন বাস্তবতাকে স্বীকার না করে সমস্যাটিকে আড়াল করতে চেয়েছে। একটি রাষ্ট্র যখন সামান্য খুনখারাবিকে স্বাভাবিক বলে ধরে নেয়, তখন সেই রাষ্ট্রের নাগরিকরা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রয়োগ নিয়ে দ্বিধায় ভোগে।
দায়িত্বশীলতার প্রত্যাশা ও গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীনের মন্তব্য “একটু মাঝেমধ্যে দু–একটা খুনখারাবি হয়”—এটি কেবল তাঁর ব্যক্তিগত দায়িত্বহীনতা নয়, বরং একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের দিক থেকে জননিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি একটি ভয়াবহ উদাসীনতা। এই উক্তি প্রমাণ করে যে, আইনশৃঙ্খলার অবনতিকে অস্বীকার করে বা লঘু করে দেখে ইসির পক্ষে জনগণের আস্থা অর্জন করা সম্ভব নয়।
একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য। এই কমিশনকে অবশ্যই নিরপেক্ষতা, নির্ভীকতা এবং জনগণের প্রতি সর্বোচ্চ দায়িত্ববোধের প্রতীক হতে হবে। খুন, সহিংসতা বা কোনো ধরনের অপরাধকে 'বিচ্ছিন্ন' বা 'স্বাভাবিক' বলে আখ্যায়িত করার প্রবণতা সাংবিধানিক নৈতিকতার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পথচলায় প্রয়োজন এমন নেতৃত্ব, যা সকল প্রকার সহিংসতাকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করবে এবং সাংবিধানিক পদের মর্যাদা সমুন্নত রাখবে। জনগণের প্রত্যাশা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো যেন তাদের দায়িত্বশীলতা দিয়ে শুধু নির্বাচনই নয়, বরং দেশের গণতন্ত্রের মূল ভিত্তিকেও সুরক্ষিত রাখে।
সিইসি’র মন্তব্যে আপনার মতামত বা প্রতিক্রিয়া কী তা কমেন্টে লিখে জানান। কমেন্ট বক্স সকলের জন্য উন্মুক্ত।

মন্তব্যসমূহ