পুলিশ গার্লফ্রেন্ড- রোমান্টিক প্রেমের গল্প: ষোল তম পরিচ্ছেদ

ব্যাঙেরছাতা


পুলিশ গার্লফ্রেন্ড
(রোমান্টিক প্রেমের গল্প)
ষোল তম পর্ব
নওরোজ বিপুল

কতো কষ্ট করে, পছন্দের একটা ছেলেকে বয়ফ্রেন্ড বানালো নূমা। রিলেশন যত গভীরে যাচ্ছে, বয়ফ্রেন্ড ততই প্যারা হয়ে দেখা দিচ্ছে। বয়ফ্রেন্ডের এমন প্যারা সহ্য করে, কিভাবে রিলেশন চালিয়ে নেয় মেয়েরা?
একদিন ডিপার্টমেন্টাল কনফারেন্সে বসেছে নূমা। প্রতি মাসে একবার এই সবাইকে এ্যাটেণ্ড করতে হয়। সব অফিসারদেরকে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেয়া হয়। নূমা এসে বসেছে সামনের দিকে। ওর পাশে বসেছে জাফর নামে ওর এক ব্যাচমেট। ট্রেনিংয়ে গিয়ে জাফরের সাথে পরিচয়। তখন থেকেই নূমার পেছনে লেগে আছে জাফর। রিলেশনের প্রপোজ করেছিল ট্রেনিং এ্যাকাডেমিতেই। নূমা প্রস্তাবের সারা দেয়নি। জাফর দেখতে শুনতে যে কোনো মেয়ের পছন্দ হওয়ার মতোই একটা ছেলে। কিন্তু নূমার ওকে পছন্দ নয়। ডিপার্টমেন্টের কারো সাথে সে কোনো ধরনের রিলেশনে যেতে চায় না। 
ট্রেনিং শেষ করে আসার পর ঢাকাতেই ওদের পোস্টিং হয়েছিল। এ্যাকাডেমিতে রিলেশনের প্রপোজ করে সুবিধা করতে পারেনি। শেষে সে নূমাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দিয়েছিল। সেই প্রস্তাবও বেশ সম্মানের সাথেই প্রত্যাখ্যান করেছে। তারপরেও নূমার পেছনে লেগেই আছে জাফর। নূমাকে নাকি সে জয় করেই ছাড়বে। নূমা ওর চ্যালেঞ্জ হেসেই উড়িয়ে দিয়েছে। সেও পাল্টা চ্যালেঞ্জ দিয়েছে, নূমা নিজে চাইলে ওকে পাওয়ার সাধ্য জাফরের কেন, জাফরের বাপেরও নাই।
পাশে বসার কারণে নূমা মোটেও কিছু বলেনি। সবার আগে তারা একে অপরের সহকর্মী। কনফারেন্সে এসে তারা পাশাপাশি বসতেই পারে। সামনের ডেস্কে মোবাইল ফোনটা রেখেছে নূমা। ভাইব্রেশন মুডে রাখা আছে। মনোযোগ দিয়ে কনফারেন্সে লেকচার শুনছে নূমা। কনফারেন্সের মূল কী নোট উপস্থাপন করছেন, পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের চীফ। ইন্সপেক্টর জেনারেল মহোদয়ের উপস্থাপনের কথা ছিল। তিনি থাকতে পারেননি। জরুরী কাজে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মহোদয় তাঁকে ডেকে পাঠিয়েছেন। তিনি কনফারেন্স উদ্বোধন করে দিয়ে চলে গেছেন। 
তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন পিবিআই চীফ। তাঁর কথা শোনা থেকে মনযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিলো নূমার মোবাইল ফোন। কল আসলো ওর মোবাইল ফোনে। ভাইব্রেশন মুডে থাকায় মোবাইল ফোনটা গোঁগোঁ আওয়াজ করতে লাগলো। নূমা তাকালো। তাকালো জাফরও। দেখতে পেলো, স্ক্রিনে নাম ভেসে উঠেছে হি। ভ্রু-কুঁচকালো জাফর। ইংরেজি এইচ আর ই দিয়ে হি লিখে রেখেছে নূমা, নিশ্চয় এটা ওর স্পেশাল কেউ। অথচ ওর স্পেশাল কেউ নাই বলেই জানতো জাফর। কোন ফাঁকে নূমা স্পেশাল কাউকে তৈরি করে ফেললো, জাফর এদিকে বসে বসে মাছি মারছে? ব্যাপারটা তো ভালো ভাবে জানা দরকার জাফরের। 
রেড বাটন বাম দিকে সুইপ করে কল কেটে দিলো নূমা। কল করেছে কারীব। ওর কল কেটে, কনফারেন্সে মনযোগী হলো নূমা। কয়েক মিনিট পর আবার আসলো। একইভাবে আবার কল কেটে দিলো নূমা। এমনিভাবে চার থেকে পাঁচ বার চললো। নূমা একেবারে সামনে বসে থাকায়, ব্যাপারটা খেয়াল করলেন পিবিআই চীফ। তিনি বললেন, 'নূমা, কলটা কি ইম্পর্টেন্ট?'
'পার্সোনাল কল, স্যার।'
'ঠিক আছে, তুমি বাইরে গিয়ে কথা বলে এসো।'
'থ্যাঙ্গস, স্যার।' বলল নূমা। বাহিরে যাওয়ার জন্য দাঁড়ালো, 'এক্সকিউজ মি, স্যার।'
বাহিরে যাওয়ার জন্য দরজার দিকে ইঙ্গিত করলেন পিবিআই চীফ। বাহিরে আসলো নূমা। কারীবের কল রিসিভ করলো। বলল, 'কী সমস্যা?'
'সমস্যা আবার কি?' অপর প্রান্ত থেকে বলল কারীব, 'কোনো সমস্যা নাই তো!'
'অসময়ে কল কেন?'
'মোবাইল ফোনে তোমার চাইল্ডিশ ভয়েসটা খুব শুনতে ইচ্ছে করছিল!'
মেজাজটা কার না গরম হয়ে যায়! নাহ্, বয়ফ্রেন্ডের প্যারা আর নিতে পারছে না নূমা। সে তার প্রফেশনাল কাজে ব্যস্ত, এই সময় কারীব কল দিয়েছে, নূমার চাইল্ডিশ ভয়েস শোনার জন্য- শালার বয়ফ্রেন্ডের গুষ্ঠির নিকুচি করেছি আজ- মনে মনে বলল নূমা। তবে নিজেকে সেই সাথে শান্তও রাখলো। রিলেশনশিপটা নিজের ইচ্ছেতে, নিজের পছন্দমতো করেছে সে। অল্পতেই রেগে গেলে চলবে না। ভেতরে ভেতরে খুব ক্ষেপে গেলেও, কারীবকে খুব শান্তভাবে বলল, 'কারীব, আজ আমি একটা কনফারেন্সে আছি। কাল রাতে কিন্তু কনফারেন্সের কথা তোমাকে বলেছিলাম। আমার চাইল্ডিশ ভয়েস, অন্য কোনো সময় শুনলে হতো না?'
'ওহ্ মাই সিলিকন ডল, স্যরি বেইবি!' বলল কারীব, 'তোমার চাইল্ডিশ ভয়েস এতো শুনতে ইচ্ছে করছিল যে, কনফারেন্সের কথা ভুলেই গিয়েছিলাম!'
'ঠিক আছে, হোয়াটসঅ্যাপে কয়েকটা সেলফি পাঠাচ্ছি, আপাতত দেখতে থাকো।' বলল নূমা, 'আর বিকালে, পাঁচটার পরে আজ মিট হবে, খুশি এবার?'
'খুশি মানে…'
কারীবকে কথা শেষ করতে দিলো না নূমা। বলল, 'আমাকে আবার কনফারেন্সে যেতে হবে। এখন রাখছি।'
নূমা কল কেটে দিলে, নিজের কান থেকে মোবাইল ফোনটা নামিয়ে নিলো কারীব। নিয়মিত আড্ডা দেয়ার সেই টি-স্টলে বসে আছে দুই বন্ধু। বন্ধুর প্ররোচনাতেই নূমাকে কল করেছিল কারীব। কথা শেষ করে বন্ধুর দিকে তাকালো সে। বলল, 'বললাম সে এখন ব্যস্ত আছে, এখন কল দেয়ার দরকার নাই…'
বন্ধুর কথা কেড়ে নিয়ে নাযীর বলল, 'ব্যস্ত রইছে বলেই তো তরে কলডা দিতে কইছি!'
'মানে?'
'মানে একডা পরীক্ষা করতে চাইছিলাম।'
'পরীক্ষা?'
'হ।'
'কী পরীক্ষা করলি?'
'হের ব্যস্ততার সময় তুই কই দিলে, হে কী প্রতিক্রিয়া দেখায়, হেইডাই আমি দ্যাখতে চাইছিলাম।'
'কী বুঝছোত, পাশ করছে না ফেল মারছে?'
'পাশ করছে।'
'কেমতে বুঝলি?'
'তরে জানানোর পরেও, কনফারেন্সের সময় হ্যারে কল কইরা, বিরক্ত করছোস- আমি শিউর, হে তাতে ভেতরে ভেতরে খুব রাইগা গেছে।' বলল নাযীর, 'কিন্তু তরে তা বুঝতেই দেয় নাই। বুঝতে দিলেই তুই কষ্ট পাবি, মন খারাপ করবি। নিজের বিরক্তি নিজের ভেতরেই লুকায়ে রাখছে।'
'তো এইডা থিকা কী প্রমাণ পাইছোস?'
'মাইয়াডা সত্যই তরে খুব ভালোবাসা ফালাইছে, এরেই পার্মানেন্ট কইরা ল। সৌন্দর্য্য আর ভালোবাসার কম্বিনেশন রইছে মাইয়াডার মইদ্যে।'
'তাইলে ল বাসায় যাই। বিকালে দেখা করবো কইছে।' বলল কারীব, 'লান্সের টাইম প্রায় হইয়াই গেছে, বাসায় যাইয়া হের লগে দেখা করতে যাওনের প্রস্তুতি লই।'
'ঠিকই কইছোত। ল যাই।'
আজ কারীব চা সিগারেটের বিল পরিশোধ করলো। কারীব আজ বাইক নিয়ে আসেনি। কিছু সমস্যা দেখা দেয়ায় ওয়ার্কশপে দিয়ে এসেছে। বাইকটা বিক্রি করে দিয়ে, নতুন আরেকটা কিনবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কারীব। বন্ধুকে বাসায় নামিয়ে দিয়ে নিজের বাসার দিয়ে রওয়ানা দিলো নাযীর। 

মন্তব্যসমূহ