পুলিশ গার্লফ্রেন্ড- রোমান্টিক প্রেমের গল্প: চৌদ্দতম পরিচ্ছেদ
পুলিশ গার্লফ্রেন্ড
(রোমান্টিক প্রেমের গল্প)
চৌদ্দ পর্ব
নওরোজ বিপুল
==============================
নূমাকে তাকাতে দেখেই কারীব বুঝে ফেললো, নাযীর বেফাঁস কিছু একটা বলে ফেলেছে। এই শালা, কারীবের মান ইজ্জত আর রাখবে না। দৃষ্টি ফিরিয়ে নিলো নূমা। নাযীরের কথার জবাবে বলল, 'নূমা বলছি।'
'অউউপস!' নাযীর বুঝতেই পারেনি, বন্ধুর ফোন থেকে তার পুলিশ গার্লফ্রেন্ড কল করবে। সে বলল, 'ম্যাম, কোনো সমস্যা?'
নূমা সংক্ষেপে বলল, 'চলে আসেন।'
'আমি আবার গিয়ে কী করবো, ম্যাম?' বলল নাযীর, 'আপনারা কথা বলেন।'
'আমাদেরকে কথা বলার সুযোগ দিতেই আপনি চলে গেছেন, তা আমি বুঝি।' বলল নূমা, 'এখন আমরা খাওয়া-দাওয়া করবো। চলে আসেন।'
'ওহ্, খাওয়া-দাওয়া শুরু হয়ে গেছে?' বলল নাযীর, 'তাহলে তো আসতেই হয়।'
নূমা বুঝতে পারলো, এরা দুই বন্ধুই উৎকৃষ্ট মানের খাদক। এক মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে চলে আসলো নাযীর। অর্থাৎ সে আশেপাশেই ছিল। কারীবের পাশের চেয়ারে বসলো নাযীর। নূমা সার্ভ করলো। গল্প করতে করতে আর হৈ-হুল্লোড় করতে করতে ওরা খাওয়া শেষ করলো। সবশেষে আসলো কফি।
আর বেশি দেরি করা যাবে না। রাত হয়ে যাচ্ছে। অবশ্য, নূমার কাছে রাত বেড়াত বলতে কিছু নাই। সে একজন পুলিশ। ওকে রাতদিন সব সময় ডিউটি করতে হয়। সে এই কপি পার্লার কাম রেষ্টরন্টে এসেছিল, কারীবের সাথে কফি খেতে আর গিফটটা দিতে। কারীবের কাছ থেকে পালটা গিফট পাবে তা আশা করেনি। ওর সাথে ক্যাবিনে ইচ্ছেতেই নূমা নিরিবিলিতে বসার কথা বলেছিল। নূমা ভেবেছিল, ক্যাবিনে নিয়ে গিয়ে কারীব ওর সাথে একটু আধটু শয়তানি করবে। ওর হাতটা ধরবে। কিন্তু গাধাটা কিছুই করলো না। আজ প্রথম দিন বলে হয়তো সাহস করে উঠতে পারেনি। পরবর্তী কোনো একদিন দেখা যাবে, কী হয়।
কাউন্টারে এসে, বিল পরিশোধের জন্য নূমা নিজের ক্রেডিট কার্ড বের করলো। ওর আগে নিজের ক্রেডিট কার্ড ম্যানেজারের হাতে ধরিয়ে দিলো কারীব। চোখ বাঁকা করে ওর দিকে তাকালো নূমা। বলল, 'কী হলো এইটা?'
'কী আবার হলো?' বলল কারীব, 'বিল দিলাম।' ম্যানেজার বিল নিয়ে কার্ড ফিরিয়ে দিলো। ওয়ালেটে কার্ড রেখে দিলো কারীব।
'আমি ইনভাইট করেছিলাম। বিলটা তো আমার দেয়া উচিৎ ছিল।'
'দেবেন, ম্যাম। অবশ্যই দেবেন।' ওদের মাঝখানে ঢুকে বলল নাযীর, 'বিল দেয়ার অনেক সময় সামনে পড়ে আছে। চলুন, যাওয়া যাক।'
কফি পার্লার থেকে বের হলো ওরা। নূমা আগে যাবে নাকি কারীব নাযীর আগে যাবে, তা নিয়ে কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দে পড়ে গেলো ওরা। নাযীর বলল, 'দুস্ত যা, ম্যামকে বাইকে করে বাসায় পৌঁছে দিয়ে আয়।'
'এই না না, আমাকে পৌঁছে দিতে হবে না।' বলল নূমা, 'আমি একা চলে যেতে পারবো। তাছাড়া, আশেপাশেই আমার ফোর্স আছে। কল করলেই ওরা চলে আসবে। তোমরা বরং চলে যাও।'
'তা কি হয় নাকি?' বলল কারীব, 'তোমাকে সী-অফ করে তারপর আমরা যাবো। তোমার ফোর্স ডাকো।'
বিশেষ একটা কারণে, নূমা চাইছিল ওরা আগে যাক। তা হলো না। ফোর্স ডাকতে হলো। কিছুক্ষণের মধ্যেই চলে আসলো পুলিশ পিকআপ ভ্যান। পেছনের অংশে কয়েক জন কনস্টেবল বসে আছে। তাদের মধ্যে দুজন মেয়ে। ম্যাডামকে দেখে তারা সবাই নেমে আসতে চাইলো। নূমা ওদেরকে নেমে আসতে নিষেধ করলো। নিজেই দরজা খুলে ড্রাইভারের পাশের সিটে বসলো নূমা। ইঙ্গিত পেয়ে ড্রাইভার গাড়ি চালাতে শুরু করলো। সামনে কিছুদূর গিয়ে গাড়ি ঘুরে, রাস্তার বিপরীত পাশ দিয়ে চলতে লাগলো। নাযীর, কারীব কেউই খেয়াল করলো না, নূমার পিকআপ ভ্যান দুইশো গজ যাওয়ার পর, সাদা একটা প্রাইভেট কার পিকআপ ভ্যানের পিছু পিছু চলতে শুরু করলো।
পাঁচ মিনিটের রাস্তা অতিক্রম করে, ড্রাইভারকে থামতে বললো নূমা। গাড়ি থেকে নামলো। সবাইকে নিজ নিজ ডিউটিতে থাকতে বললো। জানালো, সে এখন বাসায় চলে যাচ্ছে। যেকোনো প্রয়োজনে তারা যেন ওকে কল করে।
সাদা প্রাইভেট কার ততক্ষণে পিকআপ ভ্যানের পেছনে এসে দাঁড়িয়েছে। নূমা এসে কারের দরজা খুললো। ভেতরে বসে আছেন ওর বাবা রাহাত উদ্দিন। বাপের পাশের সিটে উঠে বসলো নূমা। গাড়ি আবার চলতে শুরু করলো।
নূমা বলল, 'কী আব্বু, কেমন দেখলে ছেলেটাকে?'
'অন্য সবার মতো আমিও, আগে দর্শন ধারী তারপর গুণ বিচারী প্রকৃতির মানুষ।' বললেন রাহাত উদ্দিন, 'দর্শনেই ছেলেটাকে আমার খুব ভালো লেগেছে রে, মা। পাশাপাশি তোদের দুজনকে অসাধারণ মানিয়েছিল!'
'তাহলে বলো, আমিও কোনো ছেলের সাথে রিলেশন করতে পারি!'
'অবশ্যই। এখন কী ভাবছিস, এই ছেলেকেই বিয়ে করবি?'
'করবো। যদি তুমি অনুমতি দাও।'
'অনুমতি তো ছেলেটাকে দেখার সাথে সাথেই দিয়ে ফেলেছি। ছেলেটার এ্যাড্রেস পেয়েছিস?'
'কবে পেয়েছি! একটা মেয়ের সুইসাইড কেসের তদন্ত করতে গিয়েছিলাম, মনে আছে তোমার?'
'হ্যাঁ। আছে।'
'সেই দিনই কৌশলে ওর বাসার এ্যাড্রেস নিয়ে নিয়েছিলাম।'
'তাহলে, তোর মা আর আমি ছেলেটার বাসায় যাই। আলাপ করি।'
'নাহ্, এখনি নয়, আব্বু। আরো কিছু দিন যাক। সবে তো মাত্র শুরু হলো। রিলেশনটা আরেকটু জমুক। তারপর বিয়ে।'
মেয়ের ইচ্ছের বিরুদ্ধে আর কিছু বললেন না রাহাত উদ্দিন। পুলিশের চাকুরীতে ঢোকার পর থেকে তিনি মেয়েকে বিয়ে দেয়ার চেষ্টায় আছেন। কিন্তু মেয়ে পুলিশ জেনে কোনো ছেলে আর ওকে বিয়ে করতে আসে না। তাদের যুক্তি কি, তা জানেন না রাহাত উদ্দিন। তিনি নিজেই মেয়েকে বলেছিলেন, কোনো ছেলেকে পছন্দ হলে তার সাথে রিলেশন করতে। কারো সাথে মেয়ে রিলেশন করতে পারলে, সেই ছেলেকে ঘাড় ধরে টেনে এনে মেয়ের সাথে বিয়ে দিয়ে দেবেন। কয়েক দিন আগেই নূমা বলেছিল, একটা ছেলেকে ওর নাকি খুব ভালো লেগেছে। ছেলেটাকে সে প্রপোজও করেছে। প্রপোজের পর আজই ছেলেটার সাথে ওর ফার্স্ট মিট ছিল। রাহাত উদ্দিনও তাই সেই ছেলেকে দেখার জন্য, মেয়ের সাথে চলে এসেছিলেন। অপেক্ষা করছিলেন দূরে।
মেয়েকে নিয়ে বাসায় ফিরলেন রাহাত উদ্দিন। দরজা খুলে দিলেন আফিফা বেগম। বললেন, 'বাপ-বেটির পীরিতের মিশন কি শেষ হয়েছে?'
'হয়েছে মানে!' বললেন রাহাত উদ্দিন, 'একদম সাকসেসফুল।'
সবাই এসে লিভিং রুমে বসলো। আফিফা বেগম মেয়ের দিকে তাকালেন। বললেন, 'দেখি, ছেলের ছবি দেখা। আমি এ্যাপ্রুভ করে দিলে ছেলে ওকে। না হলে বাদ।'
মায়ের কথার জবাব দেয়ার আগে, বাপের দিকে তাকালো নূমা। আবার ফিরলো মায়ের দিকে। বলল, 'ছবি তো তোলা হয়নি, আম্মু। তবে, ফেসবুকে ছেলের অনেক ছবি আছে, দেখবা?'
'না, ফেসবুকের ছবি দেখবো না, ফেসবুকে সবাই ছবি এডিট করে পোস্ট করে।' বললেন আফিফা বেগম, 'শোন, এরপর ছেলেটার সাথে যখন মিট করবি, তখন দুজন একসাথে সেলফি তুলে নিয়ে আসবি। আমি ছেলের একেবারে র পিক দেখতে চাই।'
'আচ্ছা আম্মু, নিয়ে আসবো।' বলল নূমা। কারীবের দেয়া গিফটের প্যাকেটটা মায়ের দিকে বাড়ালো সে। বলল, 'নাও, এইটা খোলো।'
'কী এইটা?'
'জিনি না ভেতরে কী আছে। সে গিফট দিয়েছে। ছবি তো দেখাতে পারলাম না, এটাই বরং তুমিই খোলো।'
স্ত্রীকে প্যাকেট খুলতে উৎসাহ দিলেন রাহাত উদ্দিন। কিন্তু আফিফা বেগমের মাথায় চট করে একটা চিন্তা আসলো। মেয়ে আর মেয়ের বয়ফ্রেন্ড- দুজনেই অল্প বয়সী ছেলে-মেয়ে। একে অপরকে দেয়া ওদের গিফট হবে, ওদের চিন্তা-ভাবনা অনুযায়ী। সেক্ষেত্রে, প্যাকেটের ভেতর হয়তো এমন কিছু থাকতে পারে, যেটার জন্য নূমা হয়তো তার বাবা-মায়ের সামনে বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে যেতে পারে।
রাহাত উদ্দিন-আফিফা বেগমের দুই ছেলে, এক মেয়ে। এক ছেলে নূমার বড়, আরেক ছেলে ওর ছোট। দুই ছেলেই দেশের বাহিরে। বড় ছেলে অস্ট্রেলিয়ায় বিজনেস করে। ছোট ছেলে কানাডায় পড়ালেখা করে। ইন্টারমিডিয়েট পাশ করার পর নূমাকেও, উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণের জন্য বিদেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়ছিল। সে যায়নি। দেশেই পড়ালেখা করে নিজের পছন্দমতো প্রফেশন বেছে নিয়েছে। ছেলে-মেয়ে তিনটা জন্ম নেয়ার পর থেকে, ওদের সাথে বন্ধুর মতো মিশেছেন রাহাত উদ্দিন-আফিফা বেগম। দুই ছেলের চেয়ে রাহাত উদ্দিন তাঁর মেয়েকে সবকিছুতে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। কারণ, মেয়ে একদিন অন্যের বাড়িতে চলে যাবে। সেই বাড়িতে গিয়ে নিজের গুরুত্ব কতটা তৈরি করে নিতে পারবে, তা তো রাহাত উদ্দিন জানেন না। সব সময় চেষ্টা করেছেন, মেয়ে যেন তাঁর বাড়িতে স্বাধীন মতো বড় হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু তারপরেও, বাবা-মায়ের সামনে ছেলে-মেয়েরা বিব্রতকর কোনো পরিস্থিতিতে পড়তে পারে, তেমন অবস্থা অন্তত বাঙ্গালী সমাজ ব্যবস্থায় এখনো তৈরি হয়নি।
আফিফা বেগম মেয়ের গিফটের প্যাকেট খুললেন না। বললেন, 'আমি কেন খুলবো, গিফট কি আমাকে দিয়েছে নাকি? তোর গিফট নিজের ঘরে গিয়ে তুই নিজে খুলবি!'
রাহাত উদ্দিন স্ত্রীর মনোভাব বুঝতে পারলেন। বললেন, 'তোর মা কিন্তু ঠিকই বলেছে রে, মা। যা, ফ্রেশ হয়ে নিয়ে, প্যাকেট খুলে দেখ, ভেতরে কী আছে।'
নিজের শোয়ার ঘরে চলে আসলো নূমা। প্যাকেটটা বিছানার মাঝখানে ছুঁড়ে দিলো। শাড়ি ব্লাউজ পেটিকোট খুললো। ব্রা আর প্যান্টি পরেই বাথরুমে আসলো। ব্রা প্যান্টি খুলে ধুয়ে দিলো। অন্তর্বাস একবার পরার পর, না ধুয়ে দ্বিতীয় বার পরে না সে। নিজে ফ্রেশ হয়ে বাথরুম থেকে বের হলো। থ্রি-পিস পরলো। গিফটের প্যাকেট এখনি খুললো না। বাবা-মায়ের সাথে রাতের খাবার খেয়ে, আবার নিজের ঘরে ফিরে আসলো। এবার আনপ্যাক করার জন্য গিফটের প্যাকেটটা টেনে নিলো।
পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন........

মন্তব্যসমূহ