পুলিশ গার্লফ্রেন্ড- রোমান্টিক প্রেমের গল্প: পনেরো তম পরিচ্ছেদ
পুলিশ গার্লফ্রেন্ড
(রোমান্টিক প্রেমের গল্প)
পনেরো তম পর্ব
নওরোজ বিপুল
রাত সাড়ে বারোটার পর, কারীবের মোবাইল ফোন ভাইব্রেট হতে লাগলো। নূমার গিফট দেয়া নতুন ফোন এটা। নূমাকে বিদায় জানিয়ে কারীব, নাযীর আরো অনেক ক্ষণ বাহিরে ছিল। বাহিরে থাকতেই নাযীর গিফটের প্যাকেট খুলে ফেলেছে। মোবাইল ফোন চালু করে দিয়েছে। প্রয়োজনীয় এ্যাপস ইনস্টল করে দিয়েছে।
বাসায় ফিরে মোবাইল ফোন বিছানার উপরেই রেখেছিল কারীব। ভাতিজা-ভাতিজি, ভাই-ভাবীর সাথে রাতের খাবার খেয়ে এসেছে। নূমার কথা এখনো সে ভাবীকে বলেনি। আরো কিছু দিন যাক তারপর বলবে।
শুয়েই পড়েছিল কারীব। নূমার দেয়া নতুন ফোনটা নিয়ে কিছুক্ষণ টেপাটিপিও করেছে। চোখে ঘুমঘুম ভাব আসলে সে মোবাইল ফোনটা বালিশের পাশে রাখলো। ঘুমানোর সময় মোবাইল ফোন ভাইব্রেশন মুডে রাখে কারীব। কল আসলে তাই মোবাইল ফোন ভাইব্রেট হতে লাগলো। কারীবের ঘুমঘুম ভাব কেটে গেলো। কল করেছে নূমা। সর্বনাশ করেছে! এই মেয়ে যদি একবার কথা বলতে শুরু করে, তাহলে কারীবের ঘুমের বারোটা বাজিয়ে দেবে। ঘন্টার পর ঘন্টা পার করে দেয়, তবু তার কথা শেষ হয় না। এতো কথা যে মেয়েটার কোথায় থেকে বের হয়, তা বুঝতে পারে না কারীব।
রাত জেগে কোনো মেয়ের সাথে কথা বলাতে কারীব অভ্যস্ত নয়। নূমাও খুব সম্ভব অভ্যস্ত নয়। কিন্তু সে হঠাৎ করে প্রেম পড়ার কারণে হয়তো সে আবেগটাকে ধরে রাখতে পারছে না। কারীবের তাতে বারোটা বেজে যাচ্ছে। পুলিশ হওয়ার কারণে, প্রথমে নূমার সাথে কোনো সম্পর্কে জড়াতে চায়নি কারীব। বন্ধুর পরামর্শে সম্পর্ক তো করতে রাজি হলো, এখন শুরু হয়েছে মেয়েটার কলাতঙ্ক। নূমা কল করলেই শিউরে উঠে কারীব।
শিউরে উঠলেও করার আর কিছু নাই। নূমার কল রিসিভ করলো কারীব। নূমা বলল, 'কল রিসিভ করতে দেরি হলো যে, ঘুমিয়ে গিয়েছিলে?'
'ঘুমঘুম ভাব এসেছিল।' বলল কারীব, 'তোমার কল পেয়ে ঘুমটা কেটে গেছে।'
'আহারে! ঘুমটা নষ্ট করে কী কষ্টটায় না দিলাম!' বলল নূমা, 'ঘুমঘুম ভাব কেউ নষ্ট করে দিলে, মেজাজটা যে কী গরম লাগে!'
নূমার কথাটা কারীবের কাছে কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দেয়ার মতো মনে হলো। একে তো ঘুমটা ভেঙ্গে দিলো, তার উপর আবার ঢঙ করছে। ঘুম যখন ভেঙ্গেই গেছে, তখন কারীবও কিছুটা পাম্প দিলো। বলল, 'কী যে বলো, কোনো সিলিকন ডল যখন ঘুম ভাঙ্গিয়ে দেয়, তখন কি কষ্ট থাকে?''
'সিলিকন ডল?' আশ্চর্য্য হয়ে বলল নূমা, 'সিলিকন ডল কে?'
'আর কে, তুমি?'
নূমা তো আগেই নিশ্চিত হয়েছিল, ওকেই সিলিকন ডল বলেছে কারীব। ম্যাচিউরড আর অ্যাডাল্ট মেয়ে নূমা। সিলিকন ডল জিনিসটা কি, তা আর ওকে বিস্তারিত বলে বোঝনোর প্রয়োজন নাই। ওকে সিলিকন ডল বলাতে সে একেবারেই রাগলো না। বলল, 'কী অসভ্যতা হচ্ছে এসব?'
'অসভ্যতার আবার কী হলো?'
'অসভ্যতা হলো না মানে, তুমি কি ভেবেছো, সিলিকন ডল জিনিসটা কি, তা আমি জানি না?'
'জানো বলেই তো বলেছি, না জানলে তো বলে মজা নাই!'
'আচ্ছা, তাহলে মজা নেয়ার জন্য আমাকে সিলিকন ডল বলছো? তুমি একটা নির্লজ্জ অসভ্য!'
কারীব হাসতে লাগলো এবং নিশ্চিত হলো, ওকে বয়ফ্রেন্ড হিসেবে অন্তরের গভীরে স্থান দিয়েছে নূমা। মেয়েরা যাকে একবার যাকে নিজের অন্তরের ভেতর স্থান দেয়, তাকে কথায় কথায় নির্লজ্জ অসভ্য ইতর জানোয়ার বদমাশ ছোটলোক এইসব বলে গালাগালি করে। রিলেশনের প্রথম দিনেই মেয়েটার অন্তরে স্থান পেয়ে গেছে কারীব। হয়তো নূমার সাথে রিলেশনটা ভালো জমবে।
'তো, মাই সিলিকন ডল, আমার গিফটটা পছন্দ হয়েছে তো?'
'শোনো, আমাকে কিন্তু রাগিয়ে দিয়ো না!'
'রাগিয়ে দিলাম কীভাবে?'
'আমি সিলিকন ডল হতে চাই না?'
'তাহলে কি শুধু ডল হতে চাও?'
'শুধু ডলও হতে চাই না?'
'তাহলে?'
'আমি একজন জীবন্ত নারী। ঐসব পুতুল ফুতুলের মধ্যে কি কোনো অনুভূতি থাকে নাকি? ওসব তো জড় পদার্থ!'
'আচ্ছা, এই ব্যাপার! বোকা মেয়ে শোনো, আমি তো ঐ ব্যাপার মীন করে তোমাকে সিলিকন ডল বলিনি।'
'তাহলে কী মীন করে বলেছো?'
'আমি পার্সোনালি মনে করি, সিলিকন ডল বা ডল হচ্ছে সৌন্দর্য্যের প্রতীক। সেই সৌন্দর্যের সাথে তুলনা করতেই, তোমাকে আমি সিলিকন ডল বলেছি! কারণ কি, জানতে চাও।'
'কী কারণ?'
'কারণ, তুমি যে বেহেশতের হুর- আমাদের পালনকর্তা বেহেশত থেকে তোমাকে পৃথিবীতে পাঠিয়ে দিয়েছেন, শুধু আমার জন্য!'
কারীবের এই পাম্প শুনে, বরাবরের মতোই ফুলে গেলো নূমা। কারীব শুনতে পেলো ওর হাসি। অবশেষে কিছুটা স্বস্তি পেলো কারীব। একটা পাম্প পছন্দ না হওয়ায় সেটাকে কাভার দিতে গিয়ে, আরেকটা পাম্প মারতে হলো। এখানে একটা অভিজ্ঞতা অর্জিত হলো কারীবের। গার্লফ্রেন্ডকে খুশি করতে কোনো পাম্প দিলে, সেটা যদি পছন্দ না হয়, তাহলে বিকল্প পাম্প তৈরি রাখতে হবে।
এই প্রসঙ্গটা থেকে নূমার মনযোগ ডাইভার্ট করার জন্য, কারীব বলল, 'বললে না তো?'
'কী বললাম না?'
'আমার গিফট পছন্দ হলো কি না?'
'বলবো না!'
'কেন?'
'সেটা রহস্য থাকুক।'
নূমার কাছ থেকে কারীব এমন জবাবই আশা করেছিল। মেয়েরা কোনো জবাবই সহজ সরলভাবে দেয় না। জবাব দেবে, ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে তারপর দেবে। শাড়িটা নূমার অবশ্যই পছন্দ হয়েছে তা, ওর বলবো না বলাতেই বুঝেছে কারীব। মেয়েরা এমন কথা বললে, তার উল্টোটা ধরে নিতে হয়। পরবর্তী যেদিন নূমার সাথে সেদিন সে শাড়িটা পরে আসে কি না, সেটা এখন কারীবের দেখার বিষয়। যদি পছন্দ হয় তাহলে পরে আসবে। পছন্দ না হলে পরে আসবে না।
কিন্তু দ্বিতীয় বার আর সহজে মিট করার সময়ই বের করতে পারছে না নূমা। প্রচন্ড ব্যস্ততার চাকুরী ওর। সময় বের করা খুব কঠিন। সময় বের করবে করবে করেও, বের করতে পারছে না। ব্যাপারটা নিয়ে কারীব আবার অযথায় প্যাঁচায়। রাগ করে বসে থাকে। বাসায় ফিরে, রাতে কল করে ওর রাগ ভাঙ্গাতে হয় নূমাকে। প্রচন্ড রকমের ঘাড় ত্যাড়া ধরনের ছেলে কারীব। সহজে রাগ ভাঙ্গানোও যায় না। শেষে মোবাইল ফোনেই চুমুটুমু দিলে তবেই ঠাণ্ডা হয়। শয়তানটা মাঝে মাঝে তো বলেই ফেলে, মোবাইল ফোনের ভেতর দিয়ে চুমুতে ফিলিংস নাই। পুলিশ কন্যার চুমু সে সরাসরি পেতে চায়। বদমাশটার সাহস দেখে হতভম্ব হয়ে যায় নূমা।
পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন.........

মন্তব্যসমূহ