পুলিশ গার্লফ্রেন্ড- রোমান্টিক প্রেমের গল্প: তৃতীয় পরিচ্ছেদ



পুলিশ গার্লফ্রেন্ড
(রোমান্টিক প্রেমের গল্প)
তৃতীয় পরিচ্ছেদ
নওরোজ বিপুল
}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{
ঘটনা বিস্তারিত শুনে প্রচন্ডরকম ভাবে ক্ষেপে গেলো কারীবের ভাবী আসমিনা। তাকে দেখে কারীবের মনে হলো, এখন যদি ঐ মহিলা পুলিশকে সামনে পেতো, তাহলে আসমিনা তার সব কয়টা চুল টেনে ছিঁড়ে ফেলতো। কোনো অভিযোগ ছাড়া কেন সে একটা ছেলেকে এভাবে হয়রানি করবে? পুলিশ হয়েছে বলে কি, মাথা কিনে নিয়েছে?
কারীবের ভাবী আসমিনার এমনভাবে ক্ষেপে যাওয়ার কারণ আছে। কারীবকে সে দেবর মনে করে না, মনে করে নিজের ছেলে। কারীব যখন ছয় বছর বয়সী ছোট্ট একটা শিশু, তখন সে ওর ভাইয়ের বউ হয়ে ওদের বাড়িতে আসে। ছয় বছর বয়সী ছোট্ট শিশুটাকে সে, বলা যায় বিয়ের প্রথম দিন থেকেই, কোলেপিঠে করে বড় করে তুলেছে। মানুষ করেছে। সেই ছয় বছর বয়সে নিজের মা’কে হারায় কারীব।
কারীব আর ওর বড় ভাই আতিকের বয়সের গ্যাপ কিছুটা বেশি। আতিকের জন্মের পর, আসমিনার শশুর-শাশুরীর কোনোভাবেই আর বাচ্চা হচ্ছিল না। অনেক চেষ্টা, ফকির-কবিরাজ-ডাক্তার ধরেও কোনো কাজ হচ্ছিল না। তাঁরাও আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন। শেষ বয়সে এসে, ফট করে শাশুরীর পেটে আশে কারীব। সেই জন্য তাঁরা দুই জনেই মহাখুশি। কিন্তু খুশি বেশিদিন ধরে রাখতে পারলেন না আসমিনার শাশুরী। কারীবের বয়স যখন ছয়, তখন এক সপ্তাহের জ্বরে ধরাধাম ত্যাগ করলেন। ছোট্ট শিশু কারীবকে নিয়ে মহাবিপদে পড়ে গেলো আসমিনার শশুর আর স্বামী। ওকে সামলানোর জন্যই নিয়ে আসা হলো আসমিনাকে। 
বউ মরে গেলে, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব আর পাড়া প্রতিবেশী, আসমিনার শশুরকে আবার বিয়ে করতে পরামর্শ দিলো। কারো পরামর্শই তিনি নিলেন না। তাঁর বড় ছেলে আতিক তখন পরিপূর্ণ একজন যুবক। ইউনিভার্সিটিতে পড়ে। আসমিনার শশুর নিজে বিয়ে না করে, ছেলেকে বিয়ে করানোর সিদ্ধান্ত নিলেন। যেমন সিদ্ধান্ত তেমন কাজ। তিনি ছেলেকে বিয়ে করানোর জন্য মেয়ে খুঁজতে লাগলেন। খুঁজতে খুঁজতে পেয়ে গেলেন আসমিনাকে। আসমিনা তাঁর ছোট বেলার এক বন্ধুর বড় ভাইয়ের মেয়ে। বিয়ে চূড়ান্ত করার আগে তিনি নিজে আসমিনার সাথে বিস্তারিত কথা বললেন। জানালেন, আসমিনাকে পুরো একটা সংসারের দায়িত্ব নিতে হবে। দায়িত্ব নিতে হবে কারীবের। আসমিনা তখনো অনেক ছোট একটা মেয়ে। ষোল সতেরো বছর বয়স। তারপরেও সে জানালো, সে সব দায়িত্ব নিতে পারবে। সেই থেকে পুরো একটা সংসার আর কারীবের দায়িত্ব নিলো আসমিনা। 
নিজের সন্তানের মতো করে কারীবকে বড় করে তুলতে থাকলো আসমিনা। এক সময় সে আসমিনাকেই সে মা বলে মনে করতে লাগলো। ওর অত্যাচার, শয়তানি, দুষ্টুমি- সবকিছু আসমিনা মুখ বুঁজে সহ্য করে যেতে থাকলো। সে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করার পর, আসমিনার শশুরও মারা গেলেন। বড় ভাই থাকলে, শাসন করার প্রয়োজনে ছোট ভাইদেরকে দুই একটা চড়-থাপ্পর মেরেই থাকে। আসমিনা সেটাও কোনো দিন করতে দেয়নি আতিককে। ছোট থেকেই কারীব একটা বদের হাড্ডি। আসমিনার আদর আর আস্কারায় আরো বড় বদে পরিনত হয় সে। কোনো সময় শাসন করার প্রয়োজনে, আতিক ওকে প্রহার করতে উদ্যত হলে, ছুটে যেতো আসমিনা। মুহুর্তের মধ্যে আতিকের কাছ থেকে কারীবকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসতো। আতিক তখন ভাইয়ের উপরে রাগের ঝাল ঝাড়তো আসমিনার উপর। 
এমন করে যে ছেলেকে আসমিনা ছোট থেকে আগলে রেখেছে, তাকে পুলিশ অযথা হয়রানি করলে, আসমিনা কেন সেই পুলিশকে ছেড়ে কথা বলবে? উল্টো কারীবই এই পর্যায়ে ভাবীকে ঠান্ডা করার চেষ্টা করলো। বলল, ‘ঠিক আছে ভাবী, এতো রাগ করো না। রাত কয়টা বাজে খেয়াল করেছো? যাও শুয়ে পড়ো। সকালে আবার জ্যোতি স্কুলে যাবে। তোমাকেও তো উঠতে হবে।’
আসমিনার বড় ছেলে জ্যোতি। জ্যোতি যখন আসমিনার পেটে তখন ডাক্তার ওর পেট স্ক্যান করে বলেছিল, মেয়ে হবে। নাম ঠিক করে রাখা হয়েছিল জ্যোতি। কিন্তু ডাক্তারের স্ক্যানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে, জন্ম নিলো ছেলে। জ্যোতি নামটা ছেলে-মেয়ে উভয়েরই রাখা যায়। সুতরাং সদ্যজাত ছেলের নাম ঠিক করে রাখা নামটায় রাখা হলো। জ্যোতি আগামী বছর এসএসসি পরীক্ষা দেবে। ওর পর আসমিনার আরেকটা মেয়ে বাচ্চা হয়েছে। এই বাচ্চার বেলায় ডাক্তার স্ক্যান করে যে রিপোর্ট দিয়েছিল, সেটাই হয়েছে। জন্ম দিয়েছে ফুটফুটে সুন্দর একটা বাচ্চা মেয়ে- আর্নি। দুটো বাচ্চায় বাবা-মায়ের যেমন চোখের মণি, তেমনি কারীবেরও অন্তরের অন্ত:স্থল।
‘শুয়ে তো পড়বোই।’ কারীবের কথার ধারাবাহিকতায় বলল আসমিনা, ‘কিন্তু দেখবি, তোর ঐ পুলিশের সাথে যদি কোনো দিন আমার দেখা হয়, তাহলে আমি কী করি!’
‘কী করবে?’
‘থাপড়ায়ে ছুঁড়ির দুই গাল লাল করে দিবো!’
আসমিনার কথা শুনে কারীব জোরে জোরে হাসতে থাকলো। আসমিনা ভ্রু-কুঁচকে ওর দিকে তাকালো। বলল, ‘হাসতেছিস কেন?’
‘ওকে তুমি কোথায় পাবে বলো তো?‘
‘কোনো না কোনো দিন তো দেখা হবেই।’
‘ঠিক আছে, দেখা হলে মনের স্বাদ মিটিয়ে থাপড়াইয়ো।’
‘তোর আর কিছু লাগবে?’
‘কিচ্ছু লাগবে না। তুমি যাও, শুয়ে পড়ো।’
‘লাইট বন্ধ করে দিবো?’
‘হ্যাঁ, দাও।’
লাইট বন্ধ করে দিলো আসমিনা। কারীবের ঘর থেকে বের হলো। বাহিরে থেকে দরজা টেনে দিলো। অন্ধকারে শুয়ে শুয়ে নূমার কথায় ভাবলো। নাযীর ঠিকই বলেছে। মেয়েটা সত্যিই অনেক সুন্দর। সুন্দর মেয়ে আগে কখনো দেখেনি, তেমনটা কখনোই বলবে না কারীব। অবশ্যই দেখেছে। নূমার চেয়েও হাজার গুণ বেশি সুন্দরী মেয়ে আছে পৃথিবীতে। কিন্তু নূমার মধ্যে কিছু একটা আছে। সেই কিছুটা আকৃষ্ট করতে চায়। আকৃষ্ট হতে গিয়েই কারীব আবার দমে গেলো। পুলিশ না হলে, মেয়েটার সাথে একটা রিলেশন গড়ে তোলার চেষ্টা করা যেতো। মেয়েটা পুলিশ হয়েই সবকিছু মেরে দিয়েছে। পুলিশের সাথে কোনো রকম রিলেশন করার চেষ্টা করা যাবে না। কোথায় কোন দিক থেকে কী প্যাঁচে ফেলবে, প্যাঁচ সামলাতেই পানি বের হয়ে যাবে। 
রূপবতী পুলিশ নূমা তার রূপ নিয়ে দূরে গিয়ে মরুক। রাত অনেক হয়ে গেছে। কারীবের এখন ঘুমানো দরকার।

পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন......


মন্তব্যসমূহ