পুলিশ গার্লফ্রেন্ড- রোমান্টিক প্রেমের গল্প: চতুর্থ পরিচ্ছেদ



পুলিশ গার্লফ্রেন্ড
(রোমান্টিক প্রেমের গল্প)
চতুর্থ পরিচ্ছেদ
নওরোজ বিপুল
}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{
কলিং বেল বাজলে নিজ ঘর থেকে বের হলো কারীব। নিশ্চয় জ্যোতির হোম টিউটর আয়েশা এসেছে। আয়েশা আসলে জ্যোতি নিজেই দরজা খুলে দেয়। কারীব নিজের ঘর থেকে বের হয় না। আজ কী যেন মনে করে বের হলো। জ্যোতি গিয়ে ততক্ষণে দরজা খুলে দিয়েছে। আয়েশা ভেতরে ঢুকে প্রথমে নিজের পা থেকে জুতা খুললো। দরজার পাশে রাখা জুতার র‍্যাকে জুতা রেখে দিলো। একবার তাকালো কারীবের দিকে। দৃষ্টি আবার ফিরিয়ে নিলো। জ্যোতির সাথে ওর পড়ার ঘরে চলে গেলো।
জ্যোতি ক্লাস নাইনে উঠার পর, আয়েশার কাছে পড়তে দেয়া হয়েছে। টিচার হিসেবে মেয়েটা অনেক ভালো। ওর কাছে পড়তে দেয়ার পর, পড়ালেখায় জ্যোতির অনেক উন্নতি হয়েছে। জ্যোতি তো একেবারে একটা পাজির পাঝাড়া। পড়ালেখায় মন নাই। যত ধরনের শয়তানি আর দুষ্টুমি ওর নখদর্পনে। কারীবের ভাবী বলে, জ্যোতি একেবারে কারীবের মতোই হয়েছে। কারীবও জ্যোতির মতো বয়সে, টিক একই ধরনের শয়তান ছিল। ভাতিজাকে নিয়ে কারীব তাই প্রাউড ফীল করে। এই বয়সের ছেলেরা যদি একটু আধটু শয়তানি, দুষ্টুমি না করে, তাহলে তাদেরকে ছেলে হিসেবে মানায় না। 
আয়েশার কাছে পড়তে দেয়ার পর, জ্যোতির মধ্যে অনেক চেঞ্জ এসেছে। পড়ালেখায় মনযোগী হয়েছে। শয়তানি দুষ্টুমি অনেক কমে এসেছে। জ্যোতির ক্লাস টেষ্ট গুলোতে রেজাল্ট ভালো হচ্ছে। ভাবী তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, টিচার আর চেঞ্জ করার প্রয়োজন নাই, যতদিন প্রয়োজন আয়েশার কাছেই পড়বে জ্যোতি। কারীব তো মাঝে মাঝেই শয়তানি করে বলে, নাহ্, এই মেয়ে তো আমার শিষ্যটাকে নষ্ট করে দিচ্ছে! 
কারীব অবশ্য তেমন একটা কথাবার্তা বলতে যায় না। সামনা-সামনি পড়ে গেলে, ‘হাই, হ্যালো, কী খবর, কেমন আছেন?‘ এইসব কথাবার্তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। মেয়েটা যথেষ্ট সুন্দরী, অবশ্য নজরকাড়া ধরনের আহামরি সুন্দরী নয়। শারীরিক গঠনও বেশ আকর্ষণীয়। ভাতিজার হোম টিউটর বলে ওর সাথে খুব বেশি ঘনিষ্ট হতে যায় না কারীব। ঘনিষ্ট হতে না যাওয়ার আরো একটা কারণ আছে। মেয়েটার সাথে ভাবীর একটা আত্মীয়তার সম্পর্ক আছে। আসমিনার লতায় পাতায় জড়ানো কোথাকার কোন, ফুফাতো ভাইয়ের মেয়ে আয়েশা। সম্পর্কটার বর্ণনা একদিন শুনেছিল কারীব। মাথার মধ্যে একেবারে লতা-পাতায় প্যাঁচ লেগে গেছে। দ্বিতীয়বার আর কখনো সম্পর্কের বর্ণনা শুনতে চায়নি কারীব। এই আত্মীয়তার সম্পর্কের কারণেও আয়েশার সাথে তেমন একটা কথাবার্তা বলে না কারীব। তা না হলে কবেই আয়েশাকে ভুলিয়ে ভালিয়ে পটিয়ে ফেলতো। তেমন কিছু করতে গেলে ভাবী কষ্ট পাবে। সুতরাং মেয়েটার সাথে দূরত্ব রেখে চলায় ভালো। 
আসমিনাকে আশেপাশে কোথাও দেখতে পেলো না কারীব। সে ডাইনিং টেবিলে আসলো। একটা গ্লাস নিলো। ফিল্টার থেকে গ্লাসে পানি নিলো। ডাইনিং টেবিলের চেয়ারে এসে বসলো। পানি পান করে গ্লাসটা যথাস্থানে রেখে দিলো। সন্ধ্যা পার হয়ে গেছে। এই সময় বাহিরেই থাকে কারীব। এতক্ষণে বেশ কয়েক কাপ চা, সাথে সিগারেট খাওয়া হয়ে যায়। আজ বাহিরে যায়নি কারীব। যাবেও না আর। বিদেশী এক ক্লায়েন্টের একটা কাজ নিয়ে ব্যস্ত সে। কাজটা শেষ করতে আরো সময় লেগে যাবে। বাহিরে যাওয়ার চিন্তা আপাতত নাই। এখন এককাপ চা খাওয়া দরকার। চা’য়ের জন্য দরকার ভাবীকে। আসমিনাকে সে কিচেনে পেলো। কিচেনের দরজায় এসে আঙ্গুল দিয়ে ঠকঠক শব্দ করলো কারীব। 
কিচেনে চা তৈরির কাজেই ব্যস্ত ছিল আসমিনা। কিচেনে কাজ করার সময় স্বাভাবিকভাবেই মেয়েদের কাপড় চোপর ঠিক থাকে না। আসমিনারও ঠিকটাক নাই। শাড়িটা জড়ো হয়ে বুকের মাঝখানে চলে এসেছে। দুই পাশ দিয়ে ওর স্তন যুগল ডানা মেলে আছে। দরজায় ঠকঠক শব্দে আসমিনা বুঝলো, কারীব এসেছে। শাড়ি ঠিক করে স্তন যুগল ঢাকলো আসমিনা। কারীবের দিকে না ঘুরেই বলল, ‘কিছু লাগবে?’
‘এককাপ চা দাও না, ভাবী।’
‘চা বানানো প্রায় শেষ, ঘরে গিয়ে বস। চা নিয়ে আসতেছি।’
‘ওকে।’
কারীব চলে গেলো। বড় একটা ট্রে-তে চায়ের চারটা কাপ সাজালো আসমিনা। একটা প্রিচে অনেকগুলো টোস্ট রাখলো। ট্রে নিয়ে প্রথমে কারীবের ঘরে আসলো। কম্পিউটারে কাজ করলো কারীব। সে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার। কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে সে যখন পড়তে চাইলো, তখন ভেবেছিল, কী সব মেকারি শিখতে চায় সে! এইসব করতে তো কোনো দোকানে কাজ শিখতে গেলেই হয়। কতো করে ওকে আসমিনা বড় করে তুলছে, সে নাকি হবে মেকার! পরে আতিক বুঝিয়ে বলেছে, কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং মেকারি নয়। কারীব যদি কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়তে চায়, পড়ুক। আসমিনা অতোসব কিছু বোঝে না। আসমিনার ভাষায় মেকারি শিখে এসে কারীব সারাদিন বসে বসে কী সব অদ্ভুতুড়ে লেখা লেখে। এইসব লেখার জন্য বিদেশিরা ওকে লক্ষ লক্ষ টাকা দেয়। আসমিনার মাথায় কিছু ঢুকে না। মনে মনে ভাবে, বিদেশীরা কি একেকটা ছাগল নাকি? এইসব অদ্ভুতুড়ে লেখা লিখে নেয়, আবার লক্ষ লক্ষ টাকা দেয়!
ট্রে থেকে প্রিচসহ একটা কাপ কারীবের কম্পিউটার ডেস্কে রাখলো আসমিনা। চার-পাঁচটা টোস্ট রাখলো প্রিচে। বলল, ‘তাড়াতাড়ি চা খেয়ে নে, তা না হলে ঠান্ডা হয়ে যাবে। পরে কিন্তু নতুন করে চা বানায়ে দিতে পারবো না।’
‘হ্যাঁ, এখনি খাইতেছি।’ একটা টোস্ট নতুন কামড় দিলো কারীব। আসমিনা চলে যাচ্ছিলো। কারীব বলল, ‘ভাবী…’
আসমিনা দাঁড়ালো। কারীবের দিকে ঘুরলো। বলল, ‘বল।’
‘এই যে, সারাদিন কিচেন-ডাইনিং টেবিল, ডাইনিং টেবিল-কিচেন নিয়ে ব্যস্ত থাকো। নিজের ঠিকটাক মতো খাওয়া-দাওয়াটা করো তো?’
‘বাব্বাহ্, হটাৎ আমার দিকে এতো নজর?’ বলল আসমিনা, ‘মতলবটা কি তোর বল তো, বিয়ে করবি?’
‘এই তো ভাবী, কিসের মধ্যে কী এনে ঢুকায়ে দিলা!’
‘তোর ভাই বিদেশ থেকে আসুক, দাড়া। তোর বিয়ার ব্যবস্থা করতে বলবো!’
খিলখিল করে হেসে উঠলো আসমিনা। হাসতে হাসতে বের হয়ে আসলো। জ্যোতির পড়ার ঘরে ঢুকলো। আয়েশা ওকে নিয়ে পড়ানোতে ব্যস্ত। ওদের টেবিলে দুই কাপ চা রাখলো। দুজনের প্রিচে টোস্ট দিলো। আয়েশাকে বলল, ‘আজ খেয়ে যাস, ঠিক আছে?’
‘কী বলছো আন্টি?’ বলল আয়েশা, ‘হোস্টেলে তো এতক্ষণে রান্না হয়ে গেছে। খেয়ে গেলে তো খাবারটা নষ্ট হবে।’
‘নষ্ট হবে কেন, পরে আবার খেয়ে নিবি।’ বলল আসমিনা, ‘এখনি তো তোর খাওয়ার বয়স। মোটা হয়ে যাওয়ার চিন্তাই আছিস নাকি?’
আসমিনার কথা শুনে মৌমিতা হাসতে লাগলো। বলল, ‘ঠিক আছে, আন্টি। খেয়ে যাবো।’
জ্যোতির পড়ার ঘর থেকে বের হয়ে, নিজের শোয়ার ঘরে আসলো আসমিনা। এঘরেই ছোট্ট একটা রিডিং টেবিল সেট করে দেয়া হয়েছে আসমিনার মেয়ে আর্নিকে। সে টেবিলে বসে পড়ছে। মেয়েটাকেও একজন টিচার দেয়া দরকার। লেখাপড়া করার চেয়ে ওর মোবাইল ফোনের দিকে আগ্রহ বেশি। এই বয়সেই সে মোবাইল ফোনের এমন এক্সপার্ট যেন, মোবাইল ফোনের ইঞ্জিনিয়ার হয়ে গেছে। এখন অবশ্য মোবাইল ফোন হাতে নেই। মায়ের মাইরের ভয়ে পড়ালেখাতেই ব্যস্ত। ওর টেবিলে চায়ের শেষ কাপটা রাখলো আসমিনা। বলল, ‘এই যে নবাবজাদী, চা টা খেয়ে নেন। ঠান্ডা হয়ে গেলে কিন্তু নতুন করে আর বানায়ে দিতে বলতে পারবেন না!’
চায়ের কাপ টেনে নিলো আর্নি। চুমুক দিলো। আসমিনা চলে যাচ্ছিলো। আর্নি বলল, ‘আম্মু, চাচু বাসায় আছে, না বাইরে গেছে?’
‘বাসায় আছে। কেন?’
‘চাচুর কাছ থেকে দুই হাজার টাকা নিবো।’
‘দুই হাজার টাকা! কী করবি এতো টাকা নিয়ে?’
‘সামনের মোড়ে নতুন একটা মোবাইল ফোনের দোকান হইছে না?’
‘হ্যাঁ, হইছে। তো?’
‘দোকানে একটা মোবাইল ঘড়ি দেখছি। আমার খুব ভাল্লাগছে। দুই হাজার টাকা দাম চাইছে। আমি ওটা নিবো।’
‘ঠিক আছে, টাকা নিতে হবে না। তোর চাচুকে সাথে নিয়ে যাস। সে গিয়ে কিনে দিবে।’
‘তাইলে তো আরো ভালো হয়।’
‘আচ্ছা, এখন পড়ালেখা কর।’
শোয়ার ঘর থেকে আসমিনা চলে আসলো কিচেনে। আয়েশাকে খাওয়ার কথা বলেছে। ওর খাবার প্রস্তুত করলো। ওকে খাওয়ানো শেষ করতে বেজে গেলো রাত সাড়ে নয়টা। এতো রাতে মেয়েটা এখন একা একা হোস্টেলে ফিরবে কী করে? সে একটা লেডিস হোস্টেলে থাকে। ইউনিভার্সিটিতে পড়ে। ইউনিভার্সিটির হলে সীট পায়নি বলে ওকে লেডিস হোস্টেলেই থাকতে হয়। পায়ে হেঁটে এখান থেকে দশ মিনিটের রাস্তা। জ্যোতিকে পড়ানো শেষ করে আয়েশা প্রতিদিন একাই যায়। কিন্তু আজ রাত হয়ে গেছে। রাস্তাঘাটে মেয়েদের চলাফেরা করাতে এমনিতেই অনেক সমস্যা, তার উপর আজ রাত হয়ে গেছে। আয়েশাকেও তাই চিন্তিত দেখালো।

পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন………

পূর্ববর্তী পরিচ্ছেদ পড়ুন: পুলিশ গার্লফ্রেন্ড- প্রথম পরিচ্ছেদ

                               পুলিশ গার্লফ্রেন্ড- দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ 

                               পুলিশ গার্লফ্রেন্ড- তৃতীয় পরিচ্ছেদ

মন্তব্যসমূহ