পুলিশ গার্লফ্রেন্ড- রোমান্টিক প্রেমের গল্প: পঞ্চম পরিচ্ছেদ



পুলিশ গার্লফ্রেন্ড
(রোমান্টিক প্রেমের গল্প)
পঞ্চম পরিচ্ছেদ
নওরোজ বিপুল
}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{
মনে মনে একটা ব্যবস্থার কথা চিন্তা করে রেখেছে আসমিনা। আয়িশাসহ দুই বাচ্চাকে নিয়ে ডিনার পর্ব শেষ করলো সে। আয়িশাকে বলল, ‘চিন্তা করিস না। ব্যবস্থা করতেছি।’
কারীবের ঘরের দিকে তাকালো আসমিনা। দরজা খোলা আছে। কারীবকে ডাকলো সে, ‘এই কারীব, এদিকে একটু আয় তো!’
কারীব আসলো। আসমিনা আর আয়েশা ডাইনিং টেবিলে বসে আছে। আশেপাশে জ্যোতি আর আর্নিকে কোথাও দেখা গেলো না। আয়েশা এখনো রয়ে গেছে কেন সেটা কারীব বুঝতে পারলো না। এতরাত পর্যন্ত ওর থাকার কথা নয়। জ্যোতিকে পড়ানো শেষ করে সে অনেক আগেই চলে যায়।
কারীব আসলে আসমিনা বলল, ‘তোর বাইকে করে আয়েশাকে হোস্টেলে দিয়ে আয় তো। রাত হয়ে গেছে, একা একা যেতে পারবে না।’
আয়েশার দিকে একবার তাকালো কারীব। অনেক দিনই হয়ে গেলো জ্যোতিকে পড়াতে আসে আয়েশা। ওর সাথে কারীব ভালো করে কথাও বলেনি কোনো দিন। আয়েশা কথা বলতে চায় কি না তা কারীব জানে না। সে নিজে বেশি কথা বলতে যায়নি, সেটাই শুধু বলতে পারে সে। যুবক ছেলে কারীব। আয়েশাও উদ্ভিন্নযৌবনা মেয়ে। বেশি কথা বলতে গেলে ঘনিষ্টতা বাড়বে। ঘনিষ্টতা বাড়লে, দুজনের মধ্যে কোনো না কোনো সম্পর্ক গড়ে উঠা অসম্ভব কিছু নয়। তেমন কোনো সম্পর্ক থেকে দূরে থাকতেই আয়েশার সাথে খুব বেশি কথা বলতে যায়নি কারীব। সম্পর্ক যে গড়ে উঠতোই তেমন কিছু বলাটাও বোকামি। কিন্তু কারীব সাবধানতা অবলম্বন করতে চেষ্টা করেছে। এই সাবধানতা ভাবী আসমিনার কথা ভেবে। অনেক দূরের হলেও, সম্পর্কে আসমিনার ভাইয়ের মেয়ে আয়েশা। কারীব যদিও ঐসব তালতলার সম্পর্কের কোনো মূল্য দেয় না, তবুও ভাবীর কথা ভেবে সম্পর্কটাকে মূল্যায়ন করেছে। তা না হলে ভাবী তো অনেক কষ্ট পেতে পারে। আজ ভাবী নিজেই যখন আয়েশাকে পৌঁছে দিতে বলছে, কারীব আর না করলো না। 
কারীব নিজ ঘর থেকে বের হয়ে এলে, ওর দিকেই তাকিয়ে ছিল আয়েশা। সে তাকালে আয়েশার ভেতর একটা লজ্জা লজ্জা ভাব আসলো। সে মাথা নিচু করলো। কেন এই লজ্জা ভাব আয়েশা তা বলতে পারে না। কেন যেন ছেলেটার সামনা-সামনি পড়লে, আয়েশার ভেতর খুব সূক্ষ্ম একটা লজ্জাভাব কাজ করে। আজ আবার ওর বাইকের পেছনে বসে যেতে হবে। বান্ধবীদের মধ্যে যারা তাদের বয়ফ্রেন্ডের বাইকে উঠে, তারা প্রায় প্রায় বলে- ওদের বয়ফ্রেন্ডরা নাকি শয়তানি করে, কোনো কারণ ছাড়াই বাইকে হুটহাট ব্রেক চাপে। তাতে ওদের বুক গিয়ে বয়ফ্রেন্ডের পিঠের সাথে ধাক্কা খায়। এতে নাকি বয়ফ্রেন্ড খুব পুলকিত হয়। আজ কারীবের সাথে বাইকে উঠে, কারীবও যদি তেমন কিছু করে? নাহ্, যে ছেলে ওর সাথে  কথায় বলতে আসে না, সে ওকে বাইকে নিয়ে তেমন আচরণ করবে বলে মনে হয় না। 
কারীব আবার নিজের ঘরে গেলো। বাইকের চাবিটা নিয়ে বের হয়ে আসলো। কোনো কথা না বলে দরজার দিকে এগুলো। আয়েশাকে নিয়ে আসমিনাও নিচে চলে আসলো। কারীব গ্রাউন্ড ফ্লোরে এসে বাইক বের করে গেটের সামনে দাঁড়ালো। আয়েশা আর আসমিনা ওর কাছে আসলো। আয়েশাকে বাইকের পেছন দিকটা দেখালো কারীব। বলল, ‘উঠেন।’
উঠার আগে আসমিনার দিকে একবার তাকালো আয়েশা। আসমিনাও ওকে উঠতে ইঙ্গিত করলো। আসমিনা বুঝতে পারছে, প্রথম বার কারীবের বাইকে উঠতে যাচ্ছে বলে, আয়েশা খুব লজ্জা পাচ্ছে। কোনো ব্যাপার না, আরো দুই একবার উঠলেই লজ্জা ভেঙ্গে যাবে।
বাইকের পেছনে উঠে বসলো আয়েশা। কম করে হলেও পাঁচ ইঞ্চি দূরত্ব রাখলো। যাতে কারীবের শরীরের স্পর্শ না লাগে। 
আসমিনা বলল, ‘ঠিকঠাকমতো পৌঁছে দিস। তুই তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরবি।’
হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়ালো কারীব। বাইক চালাতে লাগলো। পাঁচ মিনিট যাওয়ার পর একটা মোড় আছে। মহল্লার রাস্তাটা গিয়ে মেইন রাস্তার সাথে যুক্ত হয়েছে। মোড় ঘুরে বাম দিক দিয়ে আয়েশার হোস্টেলের দিকে যেতে হবে। সেদিকে যেতেই ঝামেলাটা বেধে গেলো। মোড়ের বাম পাশেই দাঁড়িয়ে আছে কয়েক জন পুলিশ। তারা বাইক আটকাচ্ছে। চেক করছে। সন্তুষ্ট হলে ছেড়ে দিচ্ছে। সন্তুষ্ট না হলে আটকিয়ে রাখছে। কারীবের অবশ্য কোনো সমস্যা নাই। বাইকের সব ডকুমেন্টস সব সময় বাইকেই থাকে। ড্রাইভিং লাইসেন্সও ওয়ালেটেই আছে। সুতরাং ওকে আটকিয়ে তারা সুবিধা করতে পারবে না। কিন্তু কারীবকে আৎকে উঠতেই হলো। সামনে কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে আছে পুলিশের একটা পিকআপ ভ্যান। পিকআপ ভ্যানের ইঞ্জিনের সাথে পাছা ঠেকিয়ে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে, মোবাইল ফোন টিপাটিপি করছে নূমা। 
কী সর্বনাশ! সেই দিন কারীবকে ধরে নিয়ে গিয়ে, নূমা যে জ্বালানোটা জ্বালিয়েছে, আজ না জানি আবার কী করে কে জানে? নূমার দিকে তাকিয়ে থাকায়- এদিকে যে একজন এসআই, কারীবকে থামার জন্য হাত মেরেছে- তা খেয়াল করেনি কারীব। যখন খেয়াল করলো তখন ওকে হার্ডব্রেক করতে হলো। 
বাইকের পেছনে বসে আয়েশা মনে মনে যে ভয়টা পাচ্ছিলো, সেটাই হলো। কারীব বাইকে হার্ডব্রেক করলে, ওর উপর হুমড়ি খেয়ে পড়লো আয়েশা। ওর সুডৌল স্তন যুগল কারীবের পিঠের সাথে ধাক্কা লেগে, প্রায় থেঁতলে যাওয়ার মতো হলো। স্বাভাবিকভাবেই নিজের স্তনে ভালোমতোই ব্যথা পেলো আয়েশা। নিজের অজান্তেই অস্ফুটস্বরে উফ্ করে উঠলো আয়েশা। জবাবে কারীব স্যরি বলবে, সেই সুযোগ হলো না। ততক্ষণে এসআই ওদের সামনে দাঁড়িয়েছে। কারীবের বাইকের চাবি খোলার জন্য হাত বাড়ালো এসআই। চাবির উপরে হাত রেখে এসআইকে বাধা দিলো কারীব। বলল, ‘চাবিতে হাত দেবেন না। আপনাদের চেকিং কীসের জন্য সেটা বলেন। ভদ্রতা বজায় রাখেন।’
প্রথমে ভ্রু-কুঁচকালো এসআই। বাইক আরোহীর কথা শুনে কিছুটা বিব্রতবোধও করলো। কারণ, তারা চেকিংয়ের সময় কখনোই বাইক চালক কিংবা আরোহীর সাথে ভদ্র ব্যবহার করে না। এই রাইডারকে চ্যালেঞ্জের স্বরে কথা বলতে শুনে এসআই বুঝতে পারলো, এর গোড়া অনেক শক্ত। এর সাথে তেমন সুবিধা করা যাবে না। 
‘আমরা আমাদের রুটিন চেকিং করছি।’ বলল এসআই, ‘সাথে মেয়ে নিয়ে এতরাতে কোথায় থেকে আসছেন আপনি?’
‘আসছি না, যাচ্ছি।’ জবাবে বলল কারীব। ইঙ্গিতে আয়েশাকে দেখালো, ‘ইনি আমার ভাতিজার হোম টিউটর। তাকে আমি তার বাসায় পৌঁছে দিতে যাচ্ছে। এখন এতরাত নয়। সবেমাত্র সাড়ে নয়টা বাজে। আর কিছু?’
‘আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্স আর বাইকের ডকুমেন্টস দেখান।’
‘কিচ্ছু দেখাবো না।‘
‘আমরা দেখতে চাইলে আপনি দেখাতে বাধ্য।’
‘বাধ্য কিন্তু দেখাবো না।‘
‘কেন দেখাবেন না?’
‘কারণ, আমি আপনাদের স্যারের পরিচিত।’ চোখের ইশারায় নূমাকে দেখালো কারীব, ‘পরিচিত লোক হিসেবে এটুকু সুবিধা আমি নিতেই পারি।’
নূমার দিকে তাকালো এসআই। ওর দৃষ্টি আকর্ষণ করলো, ‘স্যার…’
নিজের মোবাইল ফোনের দিকেই মননিবেশ করে রাখলো নূমা। মোবাইল ফোন টিপাটিপি করতে করতেই বলল, ‘হ্যাঁ জামান, বলো।’
জবাবে এসআই জামান বলল, ‘স্যার, এই ভদ্রলোক বলেছেন, ইনি নাকি আপনার পরিচিত।’
মোবাইল ফোন টিপাটিপি বন্ধ করলো নূমা। এদিকে তাকালো। নূমার দৃষ্টি সরাসরি কারীবের উপরেই পড়লো। হ্যাঁ, ছেলেটা নূমার পরিচিত। সেই রাতের সেই চকোলেট বয়। আজ আবার তার বাইকের পেছনে একটা মেয়ে দেখা যাচ্ছে। এই মুহুর্তে কারীবের অপরাধ দুইটা- এক, হেলমেট পরেনি। দুই, মেয়ে নিয়ে রাতের বেলা ঘুরাফিরা করা। মেয়েটার সাথে ছেলেটার সম্পর্ক কী হতে পারে, তা নূমার স্বাভাবিকভাবেই জানা নেই। হতে পারে তার ওয়াইফ কিংবা গার্লফ্রেন্ড। এতরাত বাইকের পেছনে নিয়ে যখন বের হয়েছে, তখন ওয়াইফ কিংবা গার্লফ্রেন্ডই হতে পারে। মেয়েটা তেমন একটা সুন্দরী নয়। এমন একটা সুন্দর ছেলের বাইকের পেছনে মেয়েটাকে মানাচ্ছে না। অবশ্য সাথে মেয়েটা থাকার কারণেই, ছেলেটাকে নূমা ঘাঁটাতে গেলো না। মেয়েটা সাথে না থাকলে, আজো ছেলেটাকে নূমার ভোগান্তির শিকার হতেই হতো। 
নিজের জায়গাতেই থাকলো নূমা। দৃষ্টি ফিরিয়ে আবার মোবাইল ফোনের দিকে মনযোগী হলো। বলল, ‘আমার পরিচিত। যেতে দাও।’
কারীব যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো। নিজ অধস্তন অফিসারের কাছে, কারীবের সম্মানটা রেখেছে নূমা। কারীবকে যেতে হলে, নূমার সামনে দিয়েই যেতে হবে। ওর সামনা-সামনি এসে বাইকের গতি একেবারেই কমিয়ে আনলো কারীব। বলল, ‘থ্যাঙ্কস ম্যাম… স্যরি… স্যার…’
চোখ বাঁকা করে কারীবের দিকে তাকালো নূমা। কারীবের থ্যাঙ্কসের জবাবে বলল, ‘গেট লস্ট!’
সাথে সাথে বাইকের গতি বাড়ালো কারীব। মুহুর্তেই ওর সামনে থেকে চলে গেলো। সুক্ষ্ম এক চিলতে হাসি ফুটিয়ে তুলেই, আবার সেটাকে মিলিয়ে যেতে দিতে হলো নূমাকে। কৌশলে লক্ষ্য করলো, কনস্টেবল আর অফিসাররা ওর দিকে খেয়াল করছে কি না। খেয়াল করেনি। যে যার কাজে ব্যস্ত। নিজের হাতে পরা ঘড়ির দিকে তাকালো নূমা। রাত প্রায় দশটা বেজে গেছে। সেই সন্ধ্যার পর রুটিন চেকিংয়ে বের হয়েছিল সে। আর ভালো লাগছে না। ইন্সপেক্টর মুবীনের হাতে রুটিন চেকিংয়ের দায়িত্ব হ্যান্ড ওভার করলো। গাড়িতে উঠে বসলো। ড্রাইভারকে থানায় যেতে বললো। থানায় এসে ডিউটি অফিসারকে ডাকলো। জানতে চাইলো, নূমার এখন আর কোনো কাজ আছে কি না। নেই জেনে বাসায় চলে আসলো।

পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন...

মন্তব্যসমূহ