পুলিশ গার্লফ্রেন্ড- রোমান্টিক প্রেমের গল্প: ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ



পুলিশ গার্লফ্রেন্ড 
(রোমান্টিক প্রেমের গল্প)
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ
নওরোজ বিপুল
}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{
বাসায় পৌঁছে নূমা দেখলো, ওর বাবা রাহাত উদ্দিন থমথমে চেহারা নিয়ে, লিভিং রুমে বসে আছেন। মনে হচ্ছে বাবা খুব রেগে আছেন। নূমা আসলে দরজা খুলে দিয়েছেন ওর মা আফিফা বেগম। মায়ের চেহারাও বাপের মতোই থমথমে। দরজা খুলে তিনি মেয়ের সাথে কথা বললেন না। সোজা নিজের ঘরে চলে গেলেন। 
খুব সম্ভব দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ঝগড়া এখন নূমাকে মিটিয়ে দিতে হবে। এখনি মেটাতে গেলো না। নিজের ঘরে আসলো। ইউনিফর্ম খুললো। টাওয়েল নিয়ে কোমড়ে প্যাঁচালো। ব্রা খুললো না। বাথরুমে আসলো। টাওয়েল আর ব্রা খুলে সম্পূর্ণ বিবস্ত্র হলো। ব্রা’টা সারাদিন ধরে পরে ছিল। ঘাম চুষে একেবারে ভিজে গেছে। খুব ভালোভাবে ধুয়ে দিলো। গোসল সেরে নিলো। বের হয়ে এসে থ্রি-পিস পরলো। বাসায় থাকলে সে ব্রা পরে না।
নিজের ঘর থেকে বের হয়ে লিভিং স্পেসে আসলো। রাহাত উদ্দিন শুধু একবার মেয়ের দিকে তাকালেন। কিছু বললেন না। টিভির দিকে দৃষ্টি ফেরালেন। 
নূমা জানতে চাইলো, ‘আব্বু, কী সমস্যা?’
রাহাত উদ্দিন এবারো কিছু বললেন না। আবার একবার মেয়ের দিকে তাকালেন। আবার দৃষ্টি টিভির দিকে ফেরালেন। 
নূমা আবার জানতে চাইলো, ‘কী সমস্যা বলবা তো!’
এবার মেয়ের দিকে তাকিয়ে রাহাত উদ্দিন বললেন, ‘এই ছেলেও তোকে রিজেক্ট করে দিয়েছে!’
আচ্ছা, এই তাহলে ঘটনা। চারদিন আগে নূমাকে একটা ছেলে দেখতে এসেছিল। সময়মতো ডিউটি থেকে আসতে পারেনি বলে, ইউনিফর্ম পরেই ছেলের বাবা-মা আর দুলাভাইয়ের সামনে গিয়েছিল নূমা। ওকে ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় দেখেই হয়তো ছেলে, ছেলের পরিবার পরিজন ঘাবড়ে গিয়েছে। ঘাবড়ে গিয়েই হয়তো নূমাকে রিজেক্ট করে দিয়েছে। এই নিয়ে নয়জন ছেলে রিজেক্ট করে দিলো নূমাকে। পুলিশে চাকুরী করে বলে, কোনো ছেলে যদি ওকে বিয়ে করতে না চায়, তাহলে ওর কী করার আছে? 
বিয়ের উপযুক্ত মেয়ে নূমা। ওর বাবা-মা স্বাভাবিকভাবেই ওকে বিয়ে দিতে চাইছেন। ছেলেও খুঁজে নিয়ে আসছেন। ছেলেরা ওকে দেখতেও আসছে। মেয়ে পুলিশে চাকুরী করে জেনে, ভয়ে লেজ গুটিয়ে পালাচ্ছে। কেন রে ভাই, পুলিশে চাকুরী করে বলে কি নূমা বাঘ ভাল্লুক হয়ে গেছে? ওকে বিয়ে করলে কি নূমা তোদেরকে জ্যান্ত গিলে খাবে? 
মেয়ের একটার পর একটা বিয়ে রিজেক্ট হয়। ওর বাবা-মা হতাশায় নিমজ্জিত হোন। হতাশা থেকে তাঁদেরকে নূমাই আবার টেনে তুলে নিয়ে আসে। আজো বিয়ে রিজেক্ট হওয়ার কথা শুনে নূমা অট্টহাসি দিলো। রাহাত উদ্দিন ভ্রু-কুঁচকে তাকালেন মেয়ের দিকে। বললেন, ‘এতো হাসিস না। শেষ পর্যন্ত দেখবি, তোর কপালে ছেলেই জুটবে না। বারবার করে বলেছি, বিসিএসে পুলিশ অপশন দেয়ার দরকার নাই।’
‘জুটবে, আব্বু। অবশ্যই জুটবে।‘ বলল নূমা, ‘যারা আমাকে রিজেক্ট করে দিচ্ছে তারা অপরাধী।’
‘অপরাধী?’
‘হ্যাঁ, অপরাধী। তা না হলে, তারা পুলিশকে বিয়ে করতে ভয় কেন পাবে?’
‘বর্তমান সময়ে পুলিশ মানেই একটা উটকো ঝামেলা মনে করে সবাই।’
কথা একেবারে সঠিক। পুলিশকে ইদানীং সাধারণ মানুষেরা উঠকো একটা ঝামেলায় মনে করে। সেই জন্যই তো একটা কথা প্রচলিত হয়েছে, পুলিশ আর কুত্তা দেখে কখনো দৌড় দিতে হয় না। বাবার কথার জবাব দেয়ার আগে, নূমার মা আফিফা বেগম আসলেন। বললেন, ‘সাধারণ ছেলেরা যখন ওকে রিজেক্ট করেই দিচ্ছে, তখন ও বরং ওর ডিপার্টমেন্টের কোনো ছেলেকে বিয়ে করুক।’
‘তোর মা কিন্তু এইটা একটা ঠিক কথা বলেছে।’ বললেন রাহাত উদ্দিন, ‘তোর ডিপার্টমেন্টের ছেলেকেই বিয়ে করা উচিৎ।’
‘তাহলে তো আব্বু, আমার বিয়ে কালকেই হয়ে যাবে।’ বলল নূমা, ‘আমার ব্যাচের আনম্যারেড কয়েকটা ছেলে তো বিয়ের প্রপোজালও দিয়ে রেখেছে!’
‘তাহলে তো হয়েই গেলো।’ বললেন আফিফা বেগম, ‘তোর যাকে পছন্দ হয়, তার ঠিকানা দে, আমরা গার্ডিয়ান লেবেলে কথাবার্তা শুরু করি।’
মায়ের দিকে তাকালো নূমা। বলল, ‘কিন্তু আম্মু, তাদেরকে যে আমি রিজেক্ট করে দিয়েছি।’
‘কেন?’
‘আমি ডিপার্টমেন্টের কাউকে বিয়ে করতে চাই না। দুজনেই যদি একই ডিপার্টমেন্টে জব করি তাহলে আমাদের সংসার হবে না।’
নূমার বাবা-মা দুজনেই আবারো হতাশায় নিমজ্জিত হলেন। এই মেয়েকে তাঁরা আর বিয়ে দিতে পারবেন না। আফিফা বেগম মেয়ের কথা শুনে রেগে গেলেন। রাগ ঝাড়লেন স্বামীর উপর। বললেন, ‘দাও, ছোট থেকে মেয়েকে লাই আস্কারা দিয়ে দিয়ে মাথায় তোলো। এখন মেয়েকে মাথায় নিয়ে বসে থাকো। তোমার মেয়েকে কেউ আর বিয়ে করতে আসবে না।’
আফিফা বেগম চলে গেলেন। বাবা মেয়ে একে অপরের দিকে তাকালো। রাহাত উদ্দিন বললেন, ‘সেই সন্ধ্যার পর থেকে তোর মা আমাকে ঝাড়ছে। তোর এই বিয়েও ভেঙ্গে যাওয়াতে যেন আমিই দায়ী। আচ্ছা মা, পছন্দ মতো একটা ছেলের সাথে রিলেশন গড়ে তুলতে পারছিস না?’
‘সেখানেও তো সমস্যা, আব্বু!’
‘কী রকম?’
‘পুলিশ দেখে ছেলেরা তো আমার দিকে তাকায়ই না। রিলেশন গড়ে উঠবে কী করে?’ উঠলো নূমা। বাবার হাত ধরলো। বলল, ‘চলো আব্বু, খাই।’
বাবা-মায়ের সাথে রাতের খাওয়া শেষ করলো নূমা। নিজের ঘরে আসলো। ঘরের আলো বন্ধ করলো। মোবাইল ফোন নিয়ে শুয়ে পড়লো। ফেসবুকে লগইন করলো। নোটিফিকেশনগুলো চেক করলো। ফেসবুকে পোস্ট খুবই কম করে নূমা। টাইমলাইনে আসা অন্যের পোস্ট পড়ে। ছবি দেখে। ভিডিও দেখে। সেগুলোর বিপরীতে আসা বিভিন্ন কমেন্টস, কমেন্টের রিপ্লাইস পড়ে। নিজের কোনো ছবি সে ফেসবুকে পোস্ট আপলোড করে না। অবশ্য, সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে অসংখ্য ছবি সে ফেসবুকে আপলোড করে আছে। সেগুলোর প্রাইভেসি সেটিংস অনলি মি করে রেখেছে। 
মেসেঞ্জারের আইকনে ক্লিক করে মেসেঞ্জারে আসলো নূমা। অনেকগুলো মেসেজ এসে জমা হয়ে আছে। মেয়েদের নামের প্রোফাইল পেলে যা হয়। অসংখ্য ছেলের ভিড় জমে ইনবক্সে। রোমান্টিক মেসেজ দেয়। রিলেশন করতে চায়। যখন নূমার আসল পরিচয় জানতে পারে, তখন রিলেশন তো দূরে থাক, লেজ গুটিয়ে পালায়। কেউ কেউ তো ব্লক পর্যন্ত মেরে দেয়। কিন্তু নূমা তো চায়ই কারো সাথে রিলেশন করতে। অবশ্য যার তার সাথে নয়। যাকে দেখে নূমার পছন্দ হবে, যাকে ভালো লাগবে- তার সাথেই তো সে রিলেশন করবে। কিন্তু ছেলেরা তো নিজেদেরকে পছন্দ করার, ভালো লাগার সুযোগই দেয় না। ওর পরিচয় জেনেই ভয় পেয়ে পালায়।
ক্যারিয়ার ব্যাপারটা নূমা যখন বুঝতে শিখেছে, তখন থেকে ক্যারিয়ারের দিকেই নিজের টার্গেটটাকে ফোকাস করেছে। নিজেকে তাই পড়ালেখার মধ্যে ব্যস্ত রেখেছিল। স্বপ্ন দেখেছে বিসিএস ক্যাডার হবে। শেষ পর্যন্ত হয়েছে। এমন এক ক্যাডার হয়েছে, ছেলেরা ওর দিকে তাকাতেই ভয় পায়। স্টুডেন্ট লাইফে সে কোনো রিলেশনে যাওয়ার চেষ্টা করেনি। তখন তো যাকে দেখবে তাকেই ভালো লেগে যাওয়ার বয়স। সেই বয়সটাতে কঠোরভাবে নিজেকে কন্ট্রোল করেছে নূমা। ভেবেছে, আগে ক্যারিয়ার গড়বে। তারপরে রিলেশনে জড়াবে। ক্যারিয়ার গড়ে উঠলো কিন্তু রিলেশন গড়ে উঠছে না।
অন্য দশটা সাধারণ মেয়ের মতো নূমাও তো সবার আগে একটা মেয়ে। ওরও তো যৌবন আছে। আকর্ষণীয় আর লোভনীয় দেহসৌষ্ঠব আছে। সৌন্দর্য্য আছে। সর্বোপরি সুন্দর একটা মন আছে। সেই মনের গভীর থেকে সে ভাবে, নজরকাড়া সৌন্দর্যের একটা বয়ফ্রেন্ড থাকবে ওর। বয়ফ্রেন্ড ওর সাথে শয়তানি করবে, দুষ্টুমি করবে। কোথাও ঘুরতে নিয়ে যাবে। ঘুরতে গিয়ে ওকে কিছুটা আড়ালে পাওয়ার চেষ্টা করবে। আড়ালে নিয়ে গিয়ে ওর হাতটা ধরবে। হাত ধরে শয়তানি করে নূমাকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরতে চাইবে। জড়িয়ে ধরে, বয়ফ্রেন্ড নিজের শক্ত বুকে নূমার নরম বুকটাকে চাপিয়ে নিতে চাইবে। তখন নূমা কী করবে? নূমা তখন প্রচন্ড ক্ষেপে যাবে। ক্ষেপে গিয়ে বয়ফ্রেন্ডকে দুই চারটা চড়-থাপ্পর মারবে। রেগেমেগে বয়ফ্রেন্ডকে ওখানেই ফেলে রেখে চলে আসবে। পরে ওর রাগ ভাঙ্গানোর জন্য, বয়ফ্রেন্ড বারবার কল করবে। কিন্তু নূমা কল রিসিভ করবে না- এগুলোই তো বিয়ে পূর্ব রিলেশনের মজা। বিয়ে হয়ে গেলে তো সবকিছুর সার্টিফিকেট পাওয়া হয়ে গেলো। বিয়ের আগে একটা রিলেশন করে সেই মজা গুলো পেতে চায় নূমা। কিন্তু ওর চাকুরীটা ওর সব চাওয়া পাওয়ার উপরে পানি ঢেলে দিয়েছে। 
মেসেঞ্জারে আসা অনেকগুলো মেসেজের রিপ্লাই দিলো নূমা। ছেলেরা এসব ক্ষেতে খুব এ্যাক্টিভ। মেয়েদের কাছ থেকে রিপ্লাই পেলে, তারা দ্বিগুণ গতিতে রিপ্লাই দেয়। মেসেঞ্জারে কিছুক্ষণ রিপ্লাই পালটা রিপ্লাই করে, আবার ফেসবুকে আসলো নূমা। টাইমলাইনে ঘুরতে ঘুরতে, কী মনে হওয়ায়, কারীবের নাম লিখে সার্চ দিলো। কী অদ্ভুত ব্যাপার, সার্চ রেজাল্টের একেবারে এক নম্বরে আসলো ছেলেটার প্রোফাইল। প্রোফাইলে ঢুকলো নূমা। কারীবের পুরো টাইমলাইনে শুধু ছবি আর ছবি। ছবিগুলোতে আবার অসংখ্য লাইকস, রিএ্যাক্ট। বেশিরভাগ লাইকস, রিএ্যাক্ট মেয়েদের। এমন একটা চকোলেট বয় মার্কা ছেলের ছবিতে, মেয়েদেরই বেশি রিএ্যাক্ট আসবে সেটাই স্বাভাবিক। 
ছেলেটার ছবি দেখতে দেখতে চোখ ধরে এলো নূমার। সারাদিনের ক্লান্তি এসে ভর করলো দুই চোখের পাতায়। চোখের পাতা ওর সাথে প্রতিযোগিতা শুরু করলো। সে চোখের পাতা টেনে খুলতে চাইলো। চোখের পাতা আবার ওর চেয়েও বেশি জোর করে, বন্ধ হয়ে যেতে থাকলো। মোবাইল ফোনটা হাত থেকে ঠাস করে পড়লো ওর বুকের উপর, সুডৌল দুই স্তনের মাঝখানে। ফেসবুকে তখন ওপেন করা ছিল কারীবের একটা ছবি।
 
পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন...

মন্তব্যসমূহ