পুলিশ গার্লফ্রেন্ড- রোমান্টিক প্রেমের গল্প: নবম পরিচ্ছেদ



পুলিশ গার্লফ্রেন্ড
(রোমান্টিক প্রেমের গল্প)
নবম পরিচ্ছেদ
নওরোজ বিপুল
}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{
বন্ধু নাযীরের সাথে নূমার ব্যাপারটা নিয়ে আলাপ করা দরকার। ওকে কল করে সন্ধ্যার পর বাসা থেকে বের হলো কারীব। চলে আসলো নীলক্ষেত। এখানেই ফুটপাতের একটা টি-স্টলে বসে আড্ডা দেয় ওরা। বিলাসবহুল কোনো পার্লার কিংবা রেষ্টরন্টে যায় না। ফুটপাতের টি-স্টলে বসে চা সিগারেট খেতে খেতে আড্ডা দেয়ার যে মজা, তা কোনো পার্লার কিংবা রেষ্টরন্টে বসে পাওয়া যায় না। 
কারীবের আগেই নাযীর চলে এসেছে। কারীব এসে একটা সিগারেট ধরালো। নাযীর ইতিমধ্যেই একটা সিগারেট টানছে। কারীব এসে ওর পাশে বসলো। নাযীর জানতে চাইলো, ‘কী সমস্যায় পড়ছোত কইতে থাক।’
জবাবে কারীব বলল, ‘আর বলিস না রে, ভাই। শালী তো খুব ঝামেলা করতে শুরু করছে!’
‘কোন শালী?’
‘আরেহ্, ঐ যে তর সুন্দরী পুলিশ আইটেম গার্ল।’
‘সুন্দরী পুলিশ আইটেম গার্ল আবার আমার হইলো কেমতে, বেডি তো তর!’
‘হেইডাই তো বড় ঝামেলার কারণ।’
‘কী হইছে খুইলা ক।’
বিস্তারিতই বললো কারীব। প্রথম সাক্ষাতের পর থেকে, নূমার সাথে ওর সাক্ষাতের পর সাক্ষাৎ ঘটছে। ওদের সোসাইটিতে একটা সুইসাইডের ঘটনা ঘটেছে। ভাবীর কাছে খবর পেয়ে, কারীব গিয়েছিল বিস্তারিত জানতে। গিয়ে দেখে, তদন্তে এসেছে নূমা। ওকে দেখেই সটকে পড়তে চেয়েছিল কারীব। পারেনি। নূমা ওকে খপ করে ধরে ফেলেছে। জেরার পর জেরা করতে করতে এক সময় কারীবের মোবাইল ফোন নম্বর নিয়েছে। নিজের নম্বরও দিয়েছে। বলেছে, ওর পারমিশন ছাড়া কারীব যেন ঢাকার বাহিরে না যায়।
সব শুনে নাযীর অট্টহাসি হাসতে লাগলো। ওর হাসি দেখে কারীব ক্ষেপে গেলো। বলল, ‘হাসতেছিস কীলিগা?’
নাযীর হাসতে হাসতেই বলল, ‘আগেই কইছিলাম বন্ধু, বেডি তর প্রেমে পইড়া গেছে!’
‘এইখানে প্রেম দেখলি কেমতে?’
‘আরে গর্ধভ শুন, কেউ যদি কারো মনের মইধ্যে গাঁইথা থাকে, তাইলে বারবার তার লগেই সাক্ষাৎ হইয়া যায়। এইডা গড গিফটেড।’ বলল নাযীর, ‘পুলিশ বেডির মনের মইধ্যে তুই গাঁইথা রইছোত। হের লাইগাই বেডি বারবার তরেই সামনে পাইয়া যাইতেছে। রাত্রির লগে আমার রিলেশন হওনের আগে, আমগোও এমনডায় হইতো- তুই তো সবই জানোস।’
নাযীরের গার্লফ্রেন্ডের নাম রাত্রি। ওরা দুজনেই দুজনকে পছন্দ করতো। এখানে ওখানে সেখানে বারবার তাদের সাক্ষাৎ হয়ে যেতো। দুজনের পছন্দের ব্যাপারটা কেউই কাউকে বলতে পারতো না। ওদের মাঝখানে ঢুকে পড়লো কারীব। মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিয়ে দুজনের সম্পর্কটাকে পাকাপোক্ত করে দিলো। এখন ওরা দুজন চুটিয়ে প্রেম করে বেড়ায়। কারীবকে এখন ওরা টাইমই দেয় না। কারীব ব্যাপারটাকে গুরুত্ব দেয় না। গার্লফ্রেন্ডকে নিয়ে বন্ধু ভালো থাকলেই ওরও ভালো থাকা হয়।
কারীব বলল, ‘এখন আমি কী করতাম হেইডা ক!’
‘কী আর করবি, বেডির লগে রিলেশন কইরা ল।’
‘কী কস, পুলিশের লগে রিলেশন!’
‘শুন, হে তর নম্বর লইছে, কেসের মইধ্যে তরে ফাঁসানোর জন্য না। তর লগে পার্সোনালি কথা কওনের লাইগা।’
‘কেমতে বুঝলি?’
‘কেমতে বুঝলাম, হেইডা বেডিরেই জিগা। কিছুক্ষণের মধ্যেই টের পাবি, তর প্রবলেম আইসা পড়ছে!’
‘মানে কি?’
মানে বলার আগেই, নাযীর চট করে ঘুরে, রাস্তার দিকে পেছন ফিরে বসলো। ওর কথা বলাতে ব্যস্ত থাকায়, কারীব একেবারেই খেয়াল করেনি, ঠিক ওদের বসে থাকা টি-স্টলের সামনেই, পুলিশের গাড়ি এসে দাঁড়ালো। ড্রাইভারের পাশের সিট থেকে নেমে আসলো নূমা। স্বাভাবিকভাবেই ওর পরনে পুলিশ ইউনিফর্ম। টি-স্টলের সামনে এসে দাঁড়ালো নূমা। চা দোকানীকে বলল, ‘মামা, কী খবর টবর?’
‘খবর ভালোই, ম্যাডাম।’ বলল চা দোকানদার, ‘চা দিমু?’
‘না মামা, এখন আর চা খাবো না।’ বলল নূমা, ‘আজ কয় কাপ চা বিক্রি করেছেন?’
প্রশ্ন শুনে ভ্রু-কুঁচকালো কারীব। কী অদ্ভুত প্রশ্ন। একজন চায়ের দোকানদার সারাদিন কয় কাপ চা বিক্রি করেছে, তা জেনে নূমা কী করবে? প্রত্যেক কাপ চায়ের দামের উপর পার্সেন্টেজ নেবে নাকি? কারীবের দিকে নূমা এখনো খেয়াল করেনি। ওর প্রশ্নের জবাবে দোকানদার বলল, ‘প্রত্যেক দিন যা বিক্রি করি আজও তাই, ম্যাডাম। কমবেশি হইলে আমি তো আপনেরে কইতাম!’
কী অদ্ভুত কথাবার্তা- মনে মনে ভাবলো কারীব। সারাদিন কয় কাপ চা বিক্রি করে, মামা তা কিভাবে হিসাব রাখে? কমবেশি হয় কি না সেটাই বা কিভাবে বের করে? 
‘ঠিক আছে মামা, আজ তো আমার ডিউটি শেষ, বাসায় চলে যাচ্ছি।’ বলল নূমা, ‘দুই এক কাপ বেশি বিক্রি করলে অবশ্যই আমাকে জানাবেন।’
‘আইচ্ছা ম্যাডাম, জানামু।’
চলেই যাচ্ছিলো নূমা। কয়েক ধাপ সামনের গিয়ে কী মনে করে দাঁড়ালো। চট করে আবার পেছনে ঘুরলো। তাকালো একেবারে দোকানের ভেতর।
এই কাম সারছে! কারীব যে ভয়টা পাচ্ছিলো সেটাই হলো। নূমা ওদেরকে দেখে ফেলেছে। দোকানে তখন আর কেউ ছিল না। শুধু কারীব আর নাযীরই বসে আছে। নাযীর আবার বসে আছে পেছন ফিরে। নূমা দোকানের ভেতরে চলে আসলো। বলল, ‘আরেহ্, মানিকজোড়! আপনারা এখানে?’
নূমাকে দেখে কারীব প্রায় দাঁড়িয়েই পড়েছিল। নূমা ওকে বসেই থাকতে ইশারা করলো। ওর প্রশ্নের জবাবে কারীব বলল, ‘আমরা এখানেই নিয়মিত আড্ডা দিই, ম্যাম… স্যরি… স্যার…। দেখা যখন হয়েই গেলো, আসুন না, এক সাথে চা খাই।’
নাযীর এপর্যায়ে ফিসফিস করে বলল, ‘চা খাওয়ার অফার কইরা ভালো করছোত!’
নূমা কথাটা ঠিক করে শুনতে পেলো না। বলল, ‘এই এই এই, কী বলছেন ফিসফিস করে? এমন করে বসে আছেন কেন, ঘুরেন এদিকে!’
কারীব বলল, ‘আপনাকে দেখেই ও এভাবে ঘুরে বসেছে!’
‘কেন, আমাকে দেখে ওভাবে ঘুরে বসতে হবে কেন?’ বলল নূমা, ‘আমি কি ভূত না পেত্নী?’
‘ভূত পেত্নী হতে যাবেন কেন, ম্যাম? আপনি তো পরী!’ বলল নাযীর এবং ঘুরে বসলো। 
নাযীরের দুঃসাহস দেখে কারীব প্রায় হা হয়ে গেলো। ওর হাতটা ধরে টিপে দিলো। ফিসফিস করে বলল, ‘কী বলতেছিস!’
পুরো ব্যাপারটা খেয়াল করলো নূমা। বলল, ‘বলতে দেন, বলতে দেন। বলেন, কী বললেন আপনি, আরেকবার বলেন তো!’
নাযীর বিব্রত হলো। বন্ধুর দিকে একবার তাকালো। ফিরলো নূমার দিকে। বলল, ‘বললাম যে, আপনি ভূত পেত্নী হতে যাবেন কেন, আপনি তো স্বর্গের হুরদের মতোই সুন্দরী!’
পাম্প শুনে অন্যান্য মেয়ের মতোই নূমা ভেতরে ভেতরে কিছুটা ফুলে গেলো। ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় দেখেও, একটা ছেলেকে ওর রূপের প্রশংসা শুনে, খুব ভালো লাগলো নূমার। ছোট্ট করে একবার নাক টানলো সে। আলগা হয়ে আসা একগোছা চুল গুঁজে দিলো কানের ফাঁকে। দোকানদারকে বলল, ‘মামা, তিনকাপ চা দেন।’ নাযীর, কারীবের দিকে তাকালো নূমা। বলল, ‘দুজনের মধ্যে সিগারেট খাওয়ার অভ্যাস আছে কার?’
নূমা লক্ষ্য করলো, প্রশ্নের জবাব মুখে না দিয়ে, একে অপরের দিকে আঙ্গুল তাক করলো নাযীর আর কারীব। অর্থাৎ সিগারেট খাওয়ার দায়ভার একজন, আরেকজনের উপর চাপিয়ে দিতে চাইছে। নূমা বলল, ‘তার মানে দুজনেই সিগারেট খান, তাই তো?’
ব্যাপারটা খেয়াল হওয়ায় ওরা দুজনই তাড়াতাড়ি করে আঙ্গুল নামিয়ে নিলো। ওদের সাথে আরেকটু ফ্রি হয়ে নেয়ার সুযোগ এটাই। সুযোগটা নূমা কাজে লাগাতে চায়। সে বলল, ‘সিগারেটের নাম কি?’
নাযীর সিগারেটের ব্র‍্যাণ্ড ন্যাম জানালো। দোকানদারের দিকে তাকালো নূমা। বলল, ‘মামা, তিনটা সিগারেট।’
নূমার কথা শুনে একেবারে আঁৎকে উঠলো দুই বন্ধু। প্রায় একইসাথে বলল, ‘তিনটা!’
দুই বন্ধুর দিকে তাকালো নূমা। বলল, ‘আরো বেশি দরকার?’
জবাবে নাযীর বলল, ‘না মানে ম্যাম, তিনটা সিগারেট কেন, সেটা বুঝতে পারলাম না!’
‘আমিও সিগারেট খাই।’ বলল নূমা।  তিনটা সিগারেট দিলো দোকানদার। নূমা সিগারেট নিয়ে দুজনকে দুইটা দিলো। নিজের কমলার কোয়ার মতো ঠোঁটের মাঝে গুঁজলো একটা। লাইটার টেনে নিয়ে, খুব ভাব নিয়ে, সিগারেট ধরালো। টান দিতে গিয়ে খকখক করে কাশতে শুরু করলো। 
যা বোঝার বুঝে নিলো দুই বন্ধু। আসলে অতি উৎসাহিত হয়ে সিগারেট ধরিয়েছে নূমা। সিগারেট খাওয়ার অভ্যাস ওর নাই। এমনটা সে কেন করলো তা সে নিজেই বলতে পারবে। ওর হাত থেকে কারীব সিগারেটটা টেনে নিলো। ফেলে দিলো। পানির একটা গ্লাস নিয়ে, ওর সামনে ধরলো। ওর দিকে তাকালো নূমা। কারীব বলল, ‘সবকিছুতে সব সময় অতি আগ্রহ থাকা ভালো নয়। নেন পানি খান।’
গ্লাসটা কারীবের হাত থেকে নিলো নূমা। দুই ঢোক পানি পান করে গ্লাসটা আবার ওকেই ফিরিয়ে দিলো। গ্লাস যথাস্থানে রাখলো কারীব। নূমা ততক্ষণে নিজেকে সামলিয়ে নিয়েছে। সে বলল, ‘আপনারা চুপচাপ বসে আছেন কেন, সিগারেট ধরিয়ে ফেলেন।’
কারীব কী করবে বুঝতে পারলো না। পকেট থেকে নিজের লাইটারটা বের করলো নাযীর। কনুই দিয়ে কারীবকে গুঁতো মারলো। সিগারেট ধরাতে ইশারা করলো। নিজের সিগারেট ধরিয়ে কারীবেরটাও ধরিয়ে দিলো। দোকানদার তিনজনকে তিন কাপ চা দিলো। নিজ কাপে চুমুক দিয়ে নূমা বলল, ‘সেই সুইসাইডের ঘটনার সাথে আপনার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আপনাকে আমি ডাকবো।’
‘কোথায় ম্যাম, বাসায়?’
প্রশ্নটা কারীবের নয়, ওর ফ্রেন্ড নাযীরের। ওর দিকে তাকালো নূমা। বলল, ‘বাসায় ডাকবো মানে?’
‘না মানে ম্যাম, বলছিলাম যে, আমার ফ্রেন্ডকে বাসায় ডেকে নিলে, জিজ্ঞাসাবাদ করতে সুবিধা হতো!’
প্রচন্ড ক্ষেপে গেলো নূমা। রেগেমেগে দাঁড়িয়ে পড়লো সে। বলল, ‘হাউ ডেয়ার ইউ! সুইসাইড কেসের সন্দেহভাজনকে আপনি বাসায় ডেকে নিয়ে, জিজ্ঞাসাবাদ করতে বলছেন!’ কারীবের দিকে তাকালো নূমা। বলল, ‘এই যে মিষ্টার, হ্যালো!’
নূমার দিকে তাকালো কারীব। নিজের ঠোঁট টিপে ধরে হাসি আটকানোর চেষ্টা করছে সে। নূমার রেগে যাওয়া দেখে আসলে ওর হাসিই পেয়েছে। নূমা বলল, ‘চা সিগারেটের বিলটা দিয়ে দেবেন, ঠিক আছে?’
ঠিক আছে বলার সুযোগ পেলো না কারীব। টি-স্টল থেকে হনহন করে বের হয়ে গেলো নূমা। ইউনিফর্ম পড়া নিজের চওড়া আর থলথলে মাংসল পাছা দুলিয়ে, গটগট করে হেঁটে গিয়ে, পিকআপ ভ্যানের ড্রাইভারের পাশের সিটে উঠে বসলো। ইশারায় ড্রাইভারকে যেতে বললো। গাড়ি ছেড়ে দিলো ড্রাইভার। 
নূমার গাড়ি চলে গেলে, বন্ধুর দিকে ফিরলো কারীব, ‘শালা, তরে আমি ডাকছি, আমার সমস্যা সমাধান করার লিগা, তুই তো আরো সমস্যা বাধায়ে দিছোস!’
‘হ, গিট্টু লাগায়ে দিছি!’ হাসতে হাসতে বলল নাযীর, ‘অহন তরে গিট্টু খুলন লাগবো না। বেডি নিজেই গিট্টু খুলবো।’
‘হ্যাই খুলবো কেমতে?’
‘যেদিন হে তরে কল দিবো, দেখবি হেইদিন বেডি নিজেই তরে প্রপোজ করবো।’
‘মাথা খারাপ হইছে তর? পুলিশের বেডি যদি প্রপোজ করে, তাইলে আমি পালামু!’
‘অহনি ভয় পাইতেছোস কীলিগা? অবস্থা বুইঝা ব্যবস্থা লওন যাইবো। অহন ল, যাইগা।’
নিজেদের চা সিগারেটের বিল, নূমার অর্ডার করা চা সিগারেটের বিল পরিশোধ করলো কারীব। দোকান থেকে বের হলো ওরা। ফুটপাতের উপর দুজনের বাইক পার্ক করা ছিল। নিজ নিজ বাইকে করে, নিজ নিজ বাসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলো।
 
পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন...

পূর্ববর্তী পরিচ্ছেদ পড়ুন: পুলিশ গার্লফ্রেন্ড- প্রথম পরিচ্ছেদ

                               পুলিশ গার্লফ্রেন্ড- দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ 

                               পুলিশ গার্লফ্রেন্ড- তৃতীয় পরিচ্ছেদ

                               পুলিশ গার্লফ্রেন্ড- চতুর্থ পরিচ্ছেদ 

                               পুলিশ গার্লফ্রেন্ড- পঞ্চম পরিচ্ছেদ 

                               পুলিশ গার্লফ্রেন্ড- ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ  

                               পুলিশ গার্লফ্রেন্ড- সপ্তম পরিচ্ছেদ   

                               পুলিশ গার্লফ্রেন্ড- অষ্টম পরিচ্ছেদ  


মন্তব্যসমূহ