পুলিশ গার্লফ্রেন্ড- রোমান্টিক প্রেমের গল্প: দশম পরিচ্ছেদ
পুলিশ গার্লফ্রেন্ড
(রোমান্টিক প্রেমের গল্প)
দশম পরিচ্ছেদ
নওরোজ বিপুল
}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{
প্রচন্ড ক্ষেপে যাওয়ার ভান করলেও, নূমা আসলে মোটেও ক্ষেপে যায়নি। কারীবকে বাসায় ডেকে নেয়ার প্রস্তাবটা ওর ভালোই লেগেছে। যুবক ছেলেরা এমনিতেই নূমার কাছ থেকে দূরত্ব রেখে চলে। সেখানে, নাযীরের কথাটা খুবই সাহসী মনে হয়েছে ওর কাছে। সে তো এমনটায় চায়। যেন-তেন কোনো ছেলে নয়, পছন্দের কোনো ছেলে কিংবা সেই ছেলের ফ্রেন্ড- নূমার সাথে এমন সাহস দেখাক। কারীবকে একটু আধটু পছন্দ হতে শুরু করেছে নূমার। সুতরাং সে চায়, কারীব ওর প্রতি আরো আকৃষ্ট হোক।
সেই সুইসাইড কেসটার সাথে কারীবের কোনো সম্পৃক্ততায় পায়নি নূমা। কারীবকে ভয় দেখানোর জন্য পেয়েছে বলে জানিয়েছে। ওদের সোসাইটির সিকিউরিটি গার্ড থেকে শুরু করে, অনেককেই ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে নূমা। কেউই তারা কারীবের নাম নেয়নি। এইসব যদি কারীবকে বলতে যায়, তাহলে তো ওর সাথে কথা বলার সোর্সটা নূমার বন্ধ হয়ে যাবে। সোর্সটা সে কিছুতেই বন্ধ করতে চায় না। ছেলেটাকে নূমার দরকার।
পরবর্তী কয়েকটা দিন, সুইসাইড কেসটা নিয়েই ব্যস্ত থাকলো নূমা। কয়েকটা দিন কারীবের সাথেও হঠাৎ হঠাৎ সাক্ষাৎ হলো না। সাক্ষাৎ হলে নূমার অবশ্য ভালোই লাগে। নিজের পুলিশি ভাব, আর কারীবের বিব্রতবোধ হওয়াটা বেশ এনজয় করে সে।
অফিস থেকে একদিন রাত দশটা বেজে গেলো। ফ্রেশ হয়ে ডিনার শেষে বিছানায় যেতে বাজলো রাত এগারোটা। বিছানায় শুয়ে ফেসবুক নিয়ে ব্যস্ত হলো। ফ্রেন্ডলিস্টে নাই, কারীবের প্রোফাইলটাকে সার্চ করে বের করলো নূমা। টাইমলাইনে নতুন বেশ কয়েকটা ছবি দেখতে পেলো। কোনো রিএ্যাক্ট করলো না। কমেন্টও করতে গেলো না। তা করলে নূমার প্রোফাইলটা সে পেয়ে যাবে। নূমা মনে মনে ভাবলো, কারীবকে একবার কল দিলে কেমন হয়? ফেসবুক এ্যাপ ক্লোজ করে দিলো নূমা। ফোনবুক থেকে কারীবের নম্বর বের করলো। কী কী কথা বলবে, তা আগেই মনে মনে ঠিক করে রাখলো। রাত প্রায় পৌনে বারোটা বাজে। এতো রাতে কোনো ছেলেকে কল করা উচিৎ কি না, সেই ভাবনায় নূমা একেবারেই গেলো না। কারীবের নম্বরে কল করলো।
প্রথম বার কারীব কল রিসিভ করলো না। হয়তো ঘুমিয়ে গেছে কিংবা নূমার নম্বর সেইভ করে রাখেনি। আবার কল দিলো। এবার রিসিভ হলো। কারীব বলল, ‘হ্যালো…’
‘কল রিসিভ করতে এতো দেরি হয় কেন?’
‘কে?’
‘নূমা।’
‘ওহ্ ম্যাম… স্যরি… স্যার, এতোরাতে কল, অফিসে আবার ডাকবেন না তো?’
‘প্রয়োজন হলে ডাকবো তো অবশ্যই। আমার নম্বর সেইভ করে রাখেননি?’
‘সেইভ করে রাখিনি বলতে…’
নূমা থামালো কারীবকে। বলল, ‘হয়েছে, কী বলবেন বুঝেছি। আজ কথা শেষ করে, নম্বরটা সেইভ করবেন। যখন তখন আপনাকে কল করার প্রয়োজন হতে পারে। আননোন নম্বরের কল অজুহাতে, কল রিসিভ করবেন না, তা যেন না হয়।’
‘জি, সেইভ করে রাখবো।’
‘শুনেন, আপনার নামে কিন্তু চার্জশিট তৈরি হয়ে গেছে।’
‘কিসের চার্জশিট?’
‘কিসের চার্জশিট মানে? সুইসাইড কেসটার কথা ভুলে গেছেন?’
‘ভুলিনি। আমার বিরুদ্ধে চার্জটা কি?’
‘বিভিন্ন জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পেরেছি, সৌমিতাকে আপনি পছন্দ করতেন।’ বলল নূমা, ‘মেয়েটার লাভারের সাথে তার সম্পর্ক ভাঙ্গতে চেষ্টা করেছেন আপনি। আপনার এই চেষ্টা মেয়েটাকে সুইসাইড করতে প্ররোচিত করেছে। একটা মেয়েকে সুইসাইড করতে, প্ররোচিত করার জন্য আপনার বিরুদ্ধে চার্জশিট তৈরি করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে আদালতে চার্জশিট জমা দেয়া হবে। নির্দোষ হলে তা আদালতে প্রমাণ করবেন।’
‘কিন্তু, আমাকে তো জিজ্ঞাসাবাদই করলেন না, অভিযোগ ক্রসচেকও করলেন না, চার্জশিট তৈরি করে ফেললেন?’
কী ধুরন্ধর ছেলে রে বাবা! ওকে ভয় দেখানোর জন্যই তো নূমা চার্জশিটের কথা বলেছে। ফাঁক দিয়ে সে চমৎকার একটা পয়েন্ট টেনে নিয়ে আসলো। পয়েন্টটার কথা তো নূমার মাথায় একবারো আসেনি। কিভাবে এখন পয়েন্টটাকে কাভার দেয়া যায়? কয়েক মুহুর্ত ভাবলো নূমা। বলল, ‘আমি এই কেসটার তদন্তকারী কর্মকর্তা। সন্দেহজনক যে কারো নামই আমি চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করতে পারি।’
নূমা ভেবেছিল, কারীব হয়তো ভয় পেয়ে নিজের নাম কাটানোর জন্য, অনেক কাকুতি মিনতি করবে। আসলে তো নূমা ইচ্ছে করলেই যে কারো নাম চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে না। ওকে সঠিকভাবে ইনভেস্টিগেট করতে হবে। অনেকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। সুনির্দিষ্টভাবে এভিডেন্স কালেক্ট করতে হবে। তারপরেই কারো নাম সে চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে। কারীবের সাথে নূমার এখনকার কথাবার্তা অফিসিয়াল নয়। একেবারেই ব্যক্তিগত। ওর নাম চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করার কথা শুনে সে বলল, ‘তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে আপনি একটা কাজ করতে পারেন না?’
‘কী কাজ?’
‘নিজের ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে আমার নামটা চার্জশিট থেকে কিন্তু আপনি কেটে দিতে পারেন।’
এই কথাটায় শুনতে চাইছিল নূমা। প্রথমে ভেবেছিল, কথাটা বলার জন্য কারীব অনেক কাকুতি মিনতি করবে। তা করলো না। কথাটা উপস্থাপন করলো অন্যভাবে। যেভাবেই করুক, নূমা তো আসলে এমন একটা প্রস্তাবের অপেক্ষাতেই ছিল। এটাই ওকে এখন কাজে লাগাতে হবে। সে বলল, ‘পারি। তবে ঘুষ লাগবে।’
‘কত চান?’
‘কত না। বলেন কী লাগবে?’
‘কী লাগবে বলতে?’
‘আপনার নাম চার্জশিট থেকে কেটে দিবো। বিনিময়ে আপনাকে আমার বয়ফ্রেন্ড হতে হবে!’
নাযীর একেবারেই ঠিক কথা বলেছিল। প্রথমবার কল দিয়ে নূমা প্রপোজ করবে। যাতে প্রপোজ করতে পারে, সেইভাবেই কথাবার্তা চালিয়ে যাচ্ছিলো কারীব। কিন্তু সে তো পুলিশের সাথে কোনো রকম রিলেশনে যেতে চায় না। নূমার প্রপোজের জবাবে কারীব এখন কী বলবে? দেখা যাক, বিষয়টা এড়ানো যায় কি না। সে বলল, ‘আপনি কি ট্র্যাপে ফেলে জোর পূর্বক আমার সাথে রিলেশন করতে চাইছেন?’
‘না কারীব, তোমার অভিযোগ একেবারেই সঠিক নয়।’ বলল নূমা, ‘তোমাকে আমার ভালো লেগেছে বলেই রিলেশন করতে চাইছি।’
‘আমার মতো একটা ছেলেকে আপনার কেন ভালো লাগবে?’
‘এই প্রশ্নের জবাব দেয়া খুব কঠিন। প্রথম সাক্ষাতের দিনই তোমাকে আমার খুব ভালো লেগে গিয়েছিল। সেই জন্যই তো তোমাকে আমি অতোদূর থেকে আমার থানায় তুলে এনেছিলাম।’
সেই রাতের বর্ণনা দিতে গিয়ে নূমা আরো জানালো, ডিপার্টমেন্টেরই একটা ওয়ার্কশপে যোগ দিতে নূমা ঢাকার বাহিরে গিয়েছিল। ওয়ার্কশপ শেষ করে ফিরতে ওরও অনেক রাত হয়ে গিয়েছিল। ফিরতি পথে, ব্রীজের উপর বাইক নিয়ে কাউকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে, ড্রাইভারকে থামতে বললো নূমা। গাড়ি থেকে নেমে বাইকটার কাছে গেলো সে। নূমার দিকে পেছন ফিরে বাইকে কিছু করছে একটা ছেলে। ডাকার পর ছেলেটা দাঁড়িয়ে যখন, নূমার দিকে তাকালো, তখন নূমার মনে হলো- কোথাও থেকে একটা হিমেল হাওয়া এসে, ওর দেহমন ছুঁইয়ে দিয়ে গেলো। পুলিশকে সামনে দেখে যেখানে সবার, পিলে চমকে যায়, সেখানে ছেলেটার মধ্যে দেখা গেলো একটা দৃঢ়তার ভাব। দৃঢ়তার ভাবটা নূমার খুব ভালো লাগলো। কথা বলে বুঝলো, হটাৎ বাইক নষ্ট হয়ে যাওয়ায়, ছেলেটা খুব বিপদে পড়েছে। এলাকাটাও নূমার থানার আওতাধীন নয়। এখন যদি ছেলেটাকে রেখে নূমা চলে যায়, সংশ্লিষ্ট থানার কেউ টহলে আসে, তাহলে অযথায় ছেলেটাকে হয়রানি করবে।
সুতরাং ওকে নিয়েই থানায় ফিরলো নূমা। কোনো কারণ ছাড়াই ছেলেটাকে সামনে বসিয়ে রাখতে, নূমার কেন যেন ভালোই লাগছিল। ওর বসে থাকাটা আরেকটু দীর্ঘায়িত করতে, ওর বন্ধুকে থানায় আসতে বলেছিল নূমা।
নূমার সবকথা বন্ধু নাযীরের অনুমানের সাথে মিলে যাচ্ছে। এসবই অনুমান করেছিল নাযীর। নূমা ইতিমধ্যেই কারীবকে তুমি সম্বোধন করতে শুরু করেছে। কারীব এখনো দ্বিধা-দ্বন্দের মধ্যে আছে। পুলিশকে সে ঝামেলা মনে করে। অতীতে পুলিশ ওকে অনেক ঝামেলায় ফেলে দিয়েছিল। সেই কারণেই সে সব সময় পুলিশের কাছ থেকে দূরে থাকতে চায়। অথচ একজন পুলিশ এসেই ওর জীবনে জড়িয়ে পড়তে চাইছে। নূমাকে তো কারীবেরও খুব ভালো লেগেছে। প্লাস্টিকের পুতুলের মতো ফুটফুটে সুন্দরী একটা মেয়ে। যে দেখবে সে-ই প্রেমে পড়তে চাইবে। সে যদি পুলিশ না হতো, তাহলে কারীবই ওকে প্রথমে প্রমোজ করতো। কিন্তু পুলিশ হয়ে সবকিছু মাটি করে দিয়েছে নূমা।
পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন...
পূর্ববর্তী পরিচ্ছেদ পড়ুন:
পুলিশ গার্লফ্রেন্ড- প্রথম পরিচ্ছেদ
পুলিশ গার্লফ্রেন্ড- দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ
পুলিশ গার্লফ্রেন্ড- তৃতীয় পরিচ্ছেদ
পুলিশ গার্লফ্রেন্ড- চতুর্থ পরিচ্ছেদ
পুলিশ গার্লফ্রেন্ড- পঞ্চম পরিচ্ছেদ
পুলিশ গার্লফ্রেন্ড- ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ
পুলিশ গার্লফ্রেন্ড- সপ্তম পরিচ্ছেদ
পুলিশ গার্লফ্রেন্ড- অষ্টম পরিচ্ছেদ

মন্তব্যসমূহ