পুলিশ গার্লফ্রেন্ড- রোমান্টিক প্রেমের গল্প: এগারো পরিচ্ছেদ



পুলিশ গার্লফ্রেন্ড
(রোমান্টিক প্রেমের গল্প)
এগারো পরিচ্ছেদ
নওরোজ বিপুল
}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{
নূমার প্রপোজ শুনে কারীব কেমন যেন নীরব হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে মেয়েরা নীরব থাকে। মুখ ফুটে কিছু বলতে পারে না। তাদের নীরবতাকে সম্মতির লক্ষ্মণ ধরে নেয়া হয়। এক্ষেত্রে নূমাও তাই ধরে নিলো। ওর প্রপোজের জবাবে কারীবের নীরবতাকে সম্মতির লক্ষ্মণ ধরে নিলো। বলল, ‘মজার একটা কথা শুনবে, কারীব?’
‘শুনবো।’
‘এখন পর্যন্ত নয়জন ছেলে আমাকে রিজেক্ট করে দিয়েছে!’
কথাটা বলে, মনপ্রাণ খুলে হাসতে লাগলো নূমা। সাক্ষাতের পর থেকে আজই প্রথম নূমার এমন স্ব-শব্দের হাসি শুনলো কারীব। ওর হাসির মধ্যেও কেমন যেন একটা মাদকতা আছে। যতক্ষণ হাসলো ততক্ষণ চুপ করে থাকলো কারীব। নূমার হাসি শুনলো। সে হাসি থামালে বলল, ‘রিজেক্ট করে দিয়েছে মানে ঠিক বুঝলাম না।’
‘বুঝতে পারলে না?’
‘না।’
‘বিয়ে করার জন্য ওরা আমাকে দেখতে এসেছিল। পুলিশ জানতে পেরে, ভয় পেয়ে আমাকে রিজেক্ট করে দিয়ে, লেজ গুটিয়ে পালিয়েছে!’
আবার হাসতে শুরু করলো নূমা। এবারো হাসি না থামা পর্যন্ত চুপচাপ থাকলো কারীব। হাসি থামিয়ে নূমা বলল, ‘পুলিশ হয়েছি বলে আমাকে কেন ভয় পেতে হবে? পুলিশে চাকুরী করি, এটা আমার প্রফেশন। কিন্তু তার আগে আমি তো একটা মেয়ে নাকি?’
কারীব কোনো জবাব দিলো না। ওকে চুপচাপ থাকতে দেখে নূমা বলল, ‘তুমি চুপচাপ আছো কেন?’
‘শুনছি।’
‘শুধু শুনছো কেন? আমার প্রশ্নের উত্তর দাও।’
‘কোনটার উত্তর দিবো?’
‘ঐ যে, প্রফেশনের আগে আমি তো একটা মেয়ে, নাকি?’
‘অবশ্যই।’
‘সুতরাং মেয়ে হিসেবে আমিও চাই, ছেলেরা আমার দিকে তাকাক, আমাকে দেখুক। শয়তানি করে দুই একটা কথা বলুক।’ বলল নূমা, ‘ভালো লাগার মতো কোনো ছেলে, আমার সাথে রিলেশন করতে ইচ্ছে প্রকাশ করুক। বিয়ের আগে আমিও একটু রিলেশনের মজা নিতে চাই। কিন্তু ভীতুর ডিমগুলো আমার দিকে তাকায়ই না। তবে হ্যাঁ, তোমার মধ্যে আমি একটু ব্যতিক্রম খুঁজে পেয়েছি!’
‘কী ব্যতিক্রম?’
‘সেই রাতের প্রথম সাক্ষাৎ থেকে শুরু করে, সর্বশেষ সাক্ষাৎ পর্যন্ত ব্যতিক্রমটা আমি লক্ষ্য করেছি।‘ বলল নূমা, ‘মেয়েদের সিক্সথ সেন্স কিন্তু ছেলেদের চেয়ে বেশি শার্প।’
কী ব্যতিক্রম যে নূমা খেয়াল করেছে, কে জানে? কারীবও তো প্রথমে ওকে দেখে, অন্যান্য ছেলের মতো পালাতে চায়। এর মধ্যে সে আবার কী ব্যতিক্রম খুঁজে পেলো? সেটা সরাসরি না বলে, অযথা প্যাঁচাচ্ছে। অযথা এই প্যাঁচানো স্বভাব বোধহয়, মেয়েদের জন্মগত বৈশিষ্ট্য।  কারীব জানতে চাইলো, ‘ব্যতিক্রমটা বললে আমার বুঝতে সুবিধা হতো।’
‘সাক্ষাৎ হলে, তুমিও অবশ্য আমার কাছ থেকে পালাতে চাও। কিন্তু তোমাকে ডাকার পর যখন সামনে আসো, তখন তোমার ব্যতিক্রমী ব্যাপারটা আমি ধরতে পারি।’
ওরেহ্ খালামুনি, আর প্যাঁচাইস না! এবার বল- মনে মনে বলল কারীব। নূমাকে বলল, ‘আমি তো সেটা শোনার জন্য অপেক্ষা করছি!’
‘ব্যতিক্রমটার জন্য খুব সাহসের দরকার হয়। যেটা তোমার ভেতরে আমি পেয়েছি। এই সাহসটার জন্যই তোমাকে আমার খুব ভালো লেগেছে!’
দাঁত কিটমিট করে নিজের ক্রোধটাকে নিয়ন্ত্রণ করলো কারীব। ওর মনে হলো, এই মুহুর্তে যদি নূমাকে সে কাছে পেতো, তাহলে ওর মাথায় বাঁশ দিয়ে ধাম করে একটা বারি মারতো। কী ব্যতিক্রম সে কারীবের মধ্যে পেয়েছে, তার জন্য কী সাহস দরকার, সেটা এক কথায় বললেই তো হয়। কথা টেনেটুনে এতো লম্বা করার কী দরকার? সম্পূর্ণ স্বাভাবিক থাকলো কারীব। বলল, ‘কথাটা কি আমি আদৌ জানতে পারবো?’
‘অবশ্যই পারবে!’
‘তাহলে শুনি।’
‘আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে, তুমি একটু পরপরই আমার বুকের দিকে তাকাও!’
আবার উচ্চস্বরে হাসতে লাগলো নূমা। এদিকে কথাটা শুনে কারীবের তো কান গরম হয়ে গেলো। মনে হলো, কেউ যেন ওর হৃদপৃন্ডটাকে দুই হাতে মুচড়ে ধরেছে। কোনো ছেলে, কোনো মেয়ের বুকের দিকে তাকালে, মেয়েটা ব্যাপারটা অবশ্যই ধরতে পারে। অনেক মেয়েই তখন বিব্রতবোধ করে। ছেলেটার দৃষ্টি থেকে নিজের বুক আড়াল করার চেষ্টা করে। কিন্তু সেটা আবার সেই ছেলেকে, কোনো মেয়ে যে এভাবে বলতে পারে- সেই ধারণা কারীবের ছিল না। নূমার বুকের দিকে কারীব যতবার তাকিয়েছে, বেশিরভাগ সময় নূমা ইউনিফর্ম পরিহিত ছিল। ওর স্তন যুগল বেশ সুডৌল। ইউনিফর্ম পরে থাকাতে, ওর সুডৌল স্তন যুগল লোভনীয়ভাবে ফুলে থাকে। সামনে দাঁড়িয়ে স্বাভাবিকভাবেই সেদিকে চোখ যায় কারীবের। নূমার তো তাতে বিব্রতবোধ করার কথা। তা না করে সে, উল্টো ব্যাপারটা থেকে ফিলিংস নিচ্ছে। সেটা আবার ঢঙ করে কারীবকে বলছে। কী অদ্ভুত মেয়ে রে বাবা!
নূমা কথাটা বলার প্রায় সাথে সাথে  আঁৎকে উঠলো কারীব। বলল, ‘এই… এই… এই… এসব কী কথা!’
জবাবে আবারো হাসলো নূমা। বলল, ‘কেন, আমার বুকের দিকে যখন তাকাও তখন খারাপ লাগে না, এখন শুনতে খারাপ লাগছে?’
কারীব ভাবলো, প্রসঙ্গ পালটানো দরকার। সে বলল, ‘কাল সকালে আপনার ডিউটি আছে না?’
‘হ্যাঁ, আছে। তো?’
‘রাত তো অনেক হয়ে গেছে। এখন মনে হয়, আপনার ঘুমিয়ে পড়া উচিৎ।’
‘এ্যাইই! তুমি আমাকে আপনি আপনি করে বলছো কেন?’ প্রায় চিৎকার দিয়ে বলল নূমা, ‘গার্লফ্রেন্ডকে কেউ আপনি করে বলে?’
গার্লফ্রেন্ড! প্রপোজ করেই নূমা নিজেকে কারীবের গার্লফ্রেন্ড বানিয়ে ফেলেছে? কারীব প্রপোজ এক্সেপ্ট করলো কি না, নূমাকে সে গার্লফ্রেন্ড হিসেবে পেতে চায় কি না, সেইসব নিশ্চিত না হয়েই নূমা নিজেকে কারীবের গার্লফ্রেন্ড ভেবে বসে আছে? এখনি অবশ্য কিছু বলতে গেলো না কারীব। বন্ধু নাযীরের সাথে আরো আলাপ করতে হবে এই বিষয়ে। ওর কাছ থেকে পরামর্শ নিতে হবে। তারপর নূমার প্রপোজ এক্সেপ্ট করা যায় কি না, তা নিয়ে ভাববে কারীব। নূমা বয়সে, কারীবের সম বয়সী হতে পারে কিংবা দুই এক বছরের ছোট হতে পারে, সুতরাং ওকে তুমি সম্বোধন করা যেতেই পারে। সে বলল, ‘এখন কিন্তু তোমার ঘুমিয়ে পড়া উচিৎ, তাই না?’
‘উচিৎ কিন্তু আমার ঘুমাতে ইচ্ছে করছে না।’
‘কেন, সকালে তো তোমাকে আবার ডিউটিতে যেতে হবে!’
‘যেতে হবে যাবো, তোমার সাথে কথা বলতে আমার ভালো লাগছে। আচ্ছা, মেয়েদেরকে কোন পোশাকে দেখতে তুমি বেশি পছন্দ করো?’
এবার আবার পোশাকের ভূত নূমার মাথায় কেন চাপলো, কারীবের তা বোধগম্য হলো না। খুবই সংক্ষেপে বলল, ‘শাড়ি।’
‘যুক্তি?’
‘যুক্তি ফুক্তি কিছু জানি না। শাড়িতেই মেয়েদেরকে আমার বেশি ভালো লাগে।‘ বলল কারীব, ‘বুঝতে শেখার পর থেকে, আমি আমার ভাবীকে শাড়ি ছাড়া অন্য কোনো পোশাক পরতে দেখিনি।’
‘আচ্ছা, আমি লক্ষ্য করেছি- তুমি সব সময় তোমার ভাবীকে হাইলাইট করার চেষ্টা করো। কারণ কি?’
‘কারণ, এই ভাবীই যে আমার মা।’
‘কী রকম?’
‘আমার ছয় বছর বয়সে আমার মা মারা যান। তখন থেকে, মায়ের আদর শাসন দিয়ে, আমার সমস্ত অত্যাচার সহ্য করে, ভাবী আমাকে মানুষ করেছে।’
‘ওহ্! ভাবীর সাথে আমি মিট করতে চাই।’
‘খবরদার ঐ চিন্তাও করো না!’
‘কেন?’
‘তোমাকে সামনে পেলেই, থাপড়ায়ে ভাবী তোমার গাল লাল করে দিবে!’
‘আশ্চর্য্য ব্যাপার তো! কোনো দিন তার সাথে আমার সাক্ষাৎ হলোই না, অথচ আমাকে থাপড়াবে কেন?’
‘আমাকে ধরে নিয়ে গিয়ে তুমি থানায় বসিয়ে রেখেছিলে, সেইজন্য।’
এবার আবার হাসতে লাগলো নূমা। হাসি থামালো কয়েক মুহুর্ত পর। বলল, ‘ঠিক আছে, থাপড়ালে থাপড়াবে। তবুও আমি তার সাথে দেখা করবো। তবে এখনি নয়। আরো পরে। আর শোনো, আগামী শনিবার, সন্ধ্যার পর- আমরা একসাথে কফি খাবো, ঠিক আছে?’
কারীব না করলো না। নূমার কফির প্রস্তাব আপাতত এক্সেপ্ট করলো। জোর করে ঘুমাতে পাঠালো নূমাকে। খুব সম্ভব কারীবকেই এভাবে প্রথম পেয়েছে সে। সেই জন্যই আগ্রহ অনেক বেশি। তাছাড়া মেয়েটার বয়সও খুব বেশি নয়। ছেলেদের সাথে রিলেশনের ফিলিংস নেয়ার বয়সটায় এখন। কিন্তু পুলিশে চাকুরী করে বলে, ছেলেরা ওর কাছ থেকে দূরে দূরে থাকে। দূরে দূরে থাকা ছেলেদের মধ্যে থেকে, কারীব ওর দিকে কিছুটা এগিয়ে গেছে। সুতরাং কারীবের প্রতিই আকৃষ্ট হয়ে পড়েছে সে।
পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন...

পূর্ববর্তী পরিচ্ছেদ পড়ুন:  

পুলিশ গার্লফ্রেন্ড- প্রথম পরিচ্ছেদ                           

পুলিশ গার্লফ্রেন্ড- দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ 

পুলিশ গার্লফ্রেন্ড- তৃতীয় পরিচ্ছেদ

পুলিশ গার্লফ্রেন্ড- চতুর্থ পরিচ্ছেদ 

পুলিশ গার্লফ্রেন্ড- পঞ্চম পরিচ্ছেদ 

পুলিশ গার্লফ্রেন্ড- ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ  

পুলিশ গার্লফ্রেন্ড- সপ্তম পরিচ্ছেদ   

পুলিশ গার্লফ্রেন্ড- অষ্টম পরিচ্ছেদ  

পুলিশ গার্লফ্রেন্ড- নবম পরিচ্ছেদ  

পুলিশ গার্লফ্রেন্ড- দশম পরিচ্ছেদ  

 

  

মন্তব্যসমূহ